বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক ও বিচারিক বিতর্কের মধ্যে ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচির আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী সমর্থকেরা। কথিত ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’-এর রায় প্রত্যাখ্যান করে সেটিকে ‘ফরমায়েশি রায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশে ‘আইনের শাসন’ ফিরিয়ে আনার দাবিতে ঢাকাকে লকডাউন কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রকাশিত প্রচারপত্রে বড় অক্ষরে লেখা হয়েছে- ‘অবৈধ ক্যাঙ্গারু কোর্ট বাংলাদেশ মানে না’। এরপর বলা হয়েছে, ‘অবৈধ এই কোর্টের ফরমায়েশি রায় মানার প্রশ্নই আসে না’। পাশাপাশি ‘দেশ বাঁচাতে, মানুষ বাঁচাতে, দেশে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনতে’ ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় লকডাউন কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিচার ও রাজনৈতিক বিরোধের বিষয়টি বিশেষভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলা বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর সমর্থকেরা দীর্ঘদিন ধরে আদালত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলো এসব মামলাকে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণেও বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা, রাজনৈতিক অধিকার ও জবাবদিহি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা রয়েছে।

প্রকাশিত প্রচারপত্রে কোনো নির্দিষ্ট বিচারসংক্রান্ত রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ‘লকডাউন’ কর্মসূচির আহ্বান এবং তা ঘিরে রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তেজনার নজির রয়েছে। ২০২৫ সালেও শেখ হাসিনার বিচারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে লকডাউন কর্মসূচির আহ্বানের খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।

২০ সেপ্টেম্বরের ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবে কীভাবে পালিত হবে, সাধারণ মানুষের চলাচল ও যানবাহন ব্যবস্থায় এর কী প্রভাব পড়বে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে- তা কর্মসূচির আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version