আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার আলোচিত বিশ্বকাপ ম্যাচে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি জানিয়েছেন, ম্যাচটি একাধিকবার গভীরভাবে পর্যালোচনা করার পরও কোনো দলকে ইচ্ছাকৃতভাবে সুবিধা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বুধবার দেওয়া এক বক্তব্যে ইনফান্তিনো বলেন, আলোচিত ঘটনাগুলো তিনি ব্যক্তিগতভাবে দশবারেরও বেশি খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। বিভিন্ন ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল, ভিএআর কক্ষের রিপ্লে এবং ম্যাচ কর্মকর্তাদের পারস্পরিক যোগাযোগের অডিওও পর্যালোচনা করা হয়েছে। তার ভাষ্য, এই তদন্তের উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া নয়; বরং সত্য উদঘাটন করে ফুটবলের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট রাখা।
ফিফা সভাপতি বলেন,বিস্তৃত পর্যালোচনার পর ভিএআর দলের বিরুদ্ধে অসৎ উদ্দেশ্য, পক্ষপাতিত্ব বা ইচ্ছাকৃত ভুল সিদ্ধান্তের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ফুটবলে সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে, তবে মতপার্থক্যকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
ইনফান্তিনো আরও বলেন, ভিএআর প্রযুক্তি চালুর মূল লক্ষ্য ছিল মাঠে রেফারির স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুলগুলো সংশোধন করা। এটি এমন কোনো প্রযুক্তি নয়, যা ফুটবলের সব ধরনের বিতর্ক একেবারে শেষ করে দেবে। অনেক সিদ্ধান্তই রেফারির নিজস্ব বিচার-বিবেচনার ওপর নির্ভর করে, আর সেখান থেকেই স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম হয়।
মিশরের সমর্থকদের হতাশা এবং আর্জেন্টিনার সমর্থকদের ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন ফিফা সভাপতি। তিনি বলেন, বড় ম্যাচে আবেগের তীব্রতা বেশি থাকায় একই সিদ্ধান্তকে দুই পক্ষ ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করে। তবে ফিফার দায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট দলের সমর্থকদের সন্তুষ্ট করা নয়; বরং খেলার আইন সবার জন্য সমানভাবে এবং নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
রেফারিং ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ইনফান্তিনো। তিনি বলেন, কোনো রেফারি বা ম্যাচ কর্মকর্তা পর্যালোচনার ঊর্ধ্বে নন। প্রতিটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও স্বচ্ছ রেফারিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
বক্তব্যের শেষভাগে ফুটবলের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে ফিফা সভাপতি বলেন, ফুটবল আবেগ, উত্তেজনা ও বিতর্কের খেলা। তবে গুজব বা অনুমানের ভিত্তিতে নয়, বরং স্বচ্ছতা, ধারাবাহিকতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমেই ফুটবলের সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।


