ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আল-কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা (AQIS)-এর শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হিসেবে পরিচিত মৌলানা ইক্রামুল হক ওরফে আবু তালহার অবস্থান নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ অভিযোগ করেছেন, ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় থাকা এই জঙ্গি বর্তমানে বাংলাদেশে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন। তাঁর এমন দাবিতে বাংলাদেশ ও ভারত- দুই দেশেই নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সজীব ওয়াজেদের দাবি, আল-কায়েদার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে পরিচিত ইক্রামুল হক দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে আত্মগোপনে রয়েছেন। জামিনে মুক্তির পর প্রায় ২২ মাস ধরে তাঁর সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে স্পষ্ট তথ্য নেই বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ইক্রামুল হককে ঘিরে ভারতের উদ্বেগের প্রধান কারণ তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড। ভারতীয় তদন্ত সংস্থাগুলোর অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়ে তিনি আল-কায়েদার মতাদর্শ প্রচার এবং সংগঠনের নেটওয়ার্ক বিস্তারে ভূমিকা রেখেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গি মডিউল ও স্লিপার সেল তৈরির সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা- এনআইএ-এর নথিতেও ইক্রামুল হককে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত এবং মোস্ট ওয়ান্টেড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহের বাসিন্দা ইক্রামুল ২০১৮ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতে যান। পরবর্তী সময়ে তিনি আল-কায়েদার মতাদর্শে যুক্ত হন এবং AQIS-এর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভারতে অবস্থানকালে তিনি পশ্চিমবঙ্গসহ একাধিক রাজ্যে সংগঠনের নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা করেন। ভুয়া পরিচয়, ভারতীয় নথি ও পাসপোর্ট ব্যবহারের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে।

ইক্রামুল হককে ২০২৩ সালের মে মাসে ঢাকার মাদারটেক এলাকা থেকে তাঁর স্ত্রী ফারিয়া আফরিনসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে তিনি জামিনে মুক্তি পান বলে জানা গেছে।

এরপর থেকেই তাঁর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বাংলাদেশের কিছু সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইক্রামুলের বাবা দাবি করেছেন, তাঁর ছেলে নারায়ণগঞ্জের কোনো একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতে পারেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাঁর সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করতে পেরেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

সজীব ওয়াজেদ তাঁর বক্তব্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণের কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশকে ব্যবহার করে আল-কায়েদা আবারও উপমহাদেশে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা করছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version