টানা ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর এলাকায় রেললাইনের ওপর পানি জমে যাওয়ায় কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি মাঝপথে আটকা পড়েছে। ট্রেনটিতে প্রায় এক হাজার যাত্রী রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে ট্রেনটি একই স্থানে আটকে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ট্রেনটি ষোলশহর স্টেশন অতিক্রম করার পর কিছু দূরে গিয়ে থেমে যায়। বিকেল সোয়া ৩টা পর্যন্তও ট্রেনটি কক্সবাজারের উদ্দেশে পুনরায় যাত্রা শুরু করতে পারেনি।

মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে পর্যটক এক্সপ্রেস। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজার পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে চট্টগ্রামে প্রবল বর্ষণের কারণে রেললাইনের ওপর পানি জমে যাওয়ায় ট্রেনটির যাত্রা মাঝপথেই থেমে যায়।

ষোলশহর স্টেশনের স্টেশন মাস্টার নেজাম উদ্দিন জানান, রেললাইনের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আটকে পড়া পর্যটক এক্সপ্রেসে প্রায় এক হাজার যাত্রী রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কক্সবাজারগামী প্রবাল এক্সপ্রেস একই এলাকা নির্বিঘ্নে অতিক্রম করেছিল। তখন রেললাইনে কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু এরপর টানা মুষলধারে বৃষ্টির ফলে দ্রুত পানি জমে যায় এবং পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রেললাইনের ওপর জমে থাকা পানি নেমে গেলে এবং লাইন নিরাপদ ঘোষণা করা হলে পর্যটক এক্সপ্রেস পুনরায় কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়া হবে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে, টানা বর্ষণে চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া বিভাগ। অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের প্রভাবে নগরীর বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে রেল যোগাযোগেও।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে রেললাইন নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version