পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে (পিওকে) চলমান বিক্ষোভ ও নির্বাচন বর্জন আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলন দমনে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৪০ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কয়েক দিন ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী অভিযানের পর পুরো অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় নাগরিক সংগঠনগুলোর দাবি, আঞ্চলিক আইনসভা নির্বাচনের আগে ভারত থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিল, বিদ্যুৎ ও গমের ভর্তুকি পুনর্বহাল এবং শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের দাবিতে জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (JAAC) আন্দোলনের ডাক দেয়। এরপর রাওয়ালাকোট, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারো মানুষ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সমাবেশে উপস্থিত নিরস্ত্র মানুষের ওপর পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি গুলিবর্ষণ করে। এতে ঘটনাস্থলেই বহু মানুষ নিহত হন এবং অসংখ্য আহত ব্যক্তিকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতার স্বজনও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য, সহিংসতার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন পুরো অঞ্চলজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।

এদিকে ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দপ্তর (OHCHR) এবং Amnesty International বলপ্রয়োগের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version