পাকিস্তানের অশান্ত খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে আবারও ভয়াবহ বোমা হামলায় রক্তাক্ত হলো একটি মসজিদ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রাদেশিক কোহাট শহরের পুরোনো পুলিশ লাইনস এলাকায় মসজিদের কাছে শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুমার নামাজের সময় মুসল্লিরা মসজিদে জড়ো হওয়ার মধ্যেই বিস্ফোরণটি ঘটে। প্রাথমিক তথ্য বলছে, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি মসজিদের প্রবেশপথের দিকে নিয়ে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মসজিদের বাইরের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি দেয়াল ধসে পড়ে। ঘটনাস্থলে বড় গর্তও তৈরি হয়েছে।

বিস্ফোরণের পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর কাজ শুরু করে। কোহাটের জেলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট তাহির আলী শাহ জানান, বিস্ফোরণের পর হাসপাতালে ১৫টি মরদেহ এবং ৫০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে আনা হয়েছে। গুরুতর আহতদের কয়েকজনকে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

উদ্ধারকাজে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকর্মী অংশ নেন। বিস্ফোরণের পর নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলের আশপাশের সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

হামলার স্থানটি সাধারণ কোনো জনসমাগমস্থল নয়- মসজিদটি পুলিশ লাইনস এলাকার ভেতরে বা সংলগ্ন নিরাপত্তা-ঘেরা এলাকায় অবস্থিত। ফলে হামলাটি শুধু মুসল্লিদের ওপর আঘাত নয়, একই সঙ্গে নিরাপত্তা স্থাপনাকেও লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।

বিস্ফোরণের পাশাপাশি পুলিশ কম্পাউন্ডে হামলার চেষ্টার ঘটনাও ঘটে এবং হামলাকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবিনিময়ের খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক- উভয়েই রয়েছেন।

হামলার পরপরই কোনো ব্যক্তি বা সশস্ত্র সংগঠন এর দায় স্বীকার করেনি। ফলে হামলার পেছনে কারা রয়েছে এবং তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্ত ও নিরাপত্তা অভিযান চলছে।

খাইবার পাখতুনখোয়া দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র হামলা ও জঙ্গি তৎপরতার অন্যতম প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন এই প্রদেশে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে নিয়মিত সংঘর্ষ হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়েও অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক মানুষের ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিন্দা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার প্রতিবেদন চেয়েছেন এবং উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম দ্রুততর করার নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে হামলার প্রকৃত লক্ষ্য, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত বিস্ফোরকের ধরন এবং হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version