ক্যানসার গবেষণার অর্থ চুরি করে দেনা পরিশোধ, বিলাসী কেনাকাটা, কাতার ভ্রমণ ও মধুচন্দ্রিমায় খরচ
ক্যানসার গবেষণার জন্য বরাদ্দ প্রায় ৯২ হাজার পাউন্ড আত্মসাৎ করে নিজের বিলাসবহুল বিয়ে ও ব্যক্তিগত খরচ মেটানোর দায়ে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তামিম চৌধুরীকে (২৯) আড়াই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের একটি আদালত। আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ দিয়ে ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ, বিদেশ ভ্রমণ, বিলাসী কেনাকাটা এবং বিয়ের আয়োজন ও মধুচন্দ্রিমার খরচও মেটান তিনি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) লন্ডনের রয়্যাল কোর্টস অব জাস্টিসে অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগ স্বীকার করার পর তামিমকে এই সাজা দেওয়া হয়। পূর্ব লন্ডনের হ্যাকনির স্টোক নিউইংটন চার্চ স্ট্রিটের বাসিন্দা তামিম সে সময় ক্যানসারবিষয়ক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ব্রেস্ট ক্যানসার নাও-এর অর্থ বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
আদালতের নথি ও শুনানি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ক্যানসার গবেষণার অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান দ্য রয়্যাল মার্সডেন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট প্রশাসনিক অনুদান বাবদ ব্রেস্ট ক্যানসার নাওকে ৯১ হাজার ৯৬৬ দশমিক ৭২ পাউন্ড ফেরত দেওয়ার কথা ছিল।
এই অর্থ হাতিয়ে নিতে তামিম প্রতিষ্ঠানটির অফিসিয়াল প্যাড ব্যবহার করে ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট রয়্যাল মার্সডেনকে একটি ই-মেইল পাঠান। সেখানে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের পরিবর্তে কৌশলে নিজের স্যানটান্ডার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য দেন। প্রায় এক বছর পর, ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট পুরো অর্থ তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা হয়।
তদন্তে উঠে আসে, সে সময় তামিম গুরুতর আর্থিক সংকটে ছিলেন এবং বিভিন্ন পাওনাদারের চাপের মুখে পড়েছিলেন। ব্যক্তিগত হিসাবে বিপুল অর্থ ঢোকার পর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিনি প্রায় ৪৯ হাজার ১০০ পাউন্ড খরচ করে ফেলেন।
আত্মসাৎ করা অর্থের ওই অংশ দিয়ে তিনি ব্যক্তিগত দেনা পরিশোধের পাশাপাশি কাতার ভ্রমণের টিকিট কেনেন, বিলাসী পণ্য কেনাকাটা করেন, আত্মীয়দের অর্থ পাঠান এবং নিজের বিয়ে ও বিদেশে মধুচন্দ্রিমার খরচ বহন করেন।
বিপুল অঙ্কের অস্বাভাবিক লেনদেন নজরে আসার পর স্যানটান্ডার ব্যাংক তামিমের হিসাব স্থগিত করে। একই সঙ্গে অবশিষ্ট ৪২ হাজার ৮৬৬ দশমিক ২৫ পাউন্ড জব্দ করা হয়। পরে ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে সিটি অব লন্ডন পুলিশের বিশেষায়িত তদন্ত দল বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।
দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২৫ সালের জুনে তামিমকে পূর্ব লন্ডনের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা ইউসুফ মির্জা বলেন, ক্যানসার রোগীদের জীবন রক্ষায় ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত অর্থ আত্মসাৎ করে তামিম প্রতিষ্ঠানের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
তবে ব্যাংকের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আত্মসাৎ করা পুরো অর্থই শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রেস্ট ক্যানসার নাও। ফলে প্রতিষ্ঠানটির কোনো আর্থিক ক্ষতি হয়নি। ভবিষ্যতে এ ধরনের জালিয়াতি প্রতিরোধে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করার কথাও জানিয়েছে দাতব্য প্রতিষ্ঠানটি।


