ইরানি হামলার আশঙ্কা ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে তুরস্ক সফর শেষে অপ্রত্যাশিতভাবে গোপন কৌশলে দেশটি ত্যাগ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাংবাদিকদের এড়িয়ে একটি খাবারের ক্যাটারিং ট্রাকে করে তাকে ছোট আকারের সামরিক বিমান সি-৩২এ-তে নেওয়া হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানা গেছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্প কাতারের উপহার দেওয়া নতুন বিমান ব্যবহার করেছিলেন। তবে তুরস্ক ছাড়ার সময় হঠাৎ করে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়। নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় তাকে নতুন বিমানের পরিবর্তে পুরোনো সামরিক বিমান ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ঘটনাটি আরও গোপন রাখতে ট্রাম্পকে প্রথমে ক্যামেরার সামনে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার দৃশ্য দেখানো হয়। এরপর তিনি গোপনে একটি খাবার সরবরাহকারী ক্যাটারিং ট্রাকে করে সি-৩২এ সামরিক বিমানে পৌঁছান। পরে ওই বিমানটি রাত ১০টা ২০ মিনিটে যুক্তরাজ্যে অবতরণ করে। এর কিছু সময় পর সাংবাদিক ও কর্মীদের বহনকারী পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানও সেখানে পৌঁছায়।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, পুরোনো স্মৃতির কারণে তিনি পুরোনো বিমানেই ভ্রমণ করছেন। নতুন বিমানটি সেনাসদস্যদের প্রদর্শনের জন্য যুক্তরাজ্যে থামানো হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

তবে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর পেছনে মূল কারণ ছিল নিরাপত্তা। তুরস্কের সঙ্গে ইরানের সীমান্ত রয়েছে এবং ওই সময় ইরানকে ঘিরে সংঘাত ও উত্তেজনা বাড়ছিল। ফলে প্রেসিডেন্টের গতিবিধি ও বিমানযাত্রা নিয়ে বাড়তি গোপনীয়তা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চ্যাউং বলেন, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাধুনিক ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুরা প্রেসিডেন্টের ওপর নজর রাখছে- এমন আশঙ্কা থাকায় তার নিরাপত্তায় সব ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version