চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমসের নজরদারিতে থাকা অন্তত ২৫০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ আমদানি কনটেইনারের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। চোরাচালান, পণ্যের মিথ্যা ঘোষণা ও শুল্ক ফাঁকির সন্দেহে কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে লক করে রাখা এসব কনটেইনারের অবস্থান জানতে গত নয় মাসে একাধিকবার বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হলেও এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।
কাস্টমস সূত্র জানায়, নিখোঁজ তালিকায় রয়েছে ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মোট ২৫০টি কনটেইনার। অবস্থান শনাক্ত না হওয়ায় এসব চালান পরিদর্শন, তদন্ত কিংবা সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এরই মধ্যে গত এক বছরে বন্দর থেকে পণ্যবোঝাই একাধিক কনটেইনার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একটি ঘটনায় ই-নিলামে কেনা প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ টাকা মূল্যের কনটেইনার ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করতে ব্যর্থ হওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। অন্য দুটি ঘটনায় জাল সিল, ভুয়া স্বাক্ষর ও জাল গেট পাস ব্যবহার করে কনটেইনার সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, বাস্তবে কনটেইনার উধাও হলেও বন্দরের ডিজিটাল কার্গো ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে সেগুলো ইয়ার্ডে সংরক্ষিত দেখানো হচ্ছিল। এতে বন্দরের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
কাস্টমস আইন অনুযায়ী, বন্দরে থাকা আমদানিকৃত পণ্যের নিরাপদ সংরক্ষণের দায়িত্ব চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। তবে ২৫০টি কনটেইনারের অবস্থান সম্পর্কে এখনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি তারা। ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের নিরাপত্তা, জবাবদিহি ও কার্গো ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।


