চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে অন্তত ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির দাবি, অতীতের তুলনায় হামলার ধরনে পরিবর্তন এলেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, উপাসনালয়ে হামলা, সম্পত্তি দখল, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা এখনও উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ লিখিত বক্তব্যে জানান, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সংঘটিত এসব ঘটনায় ৪৪ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ৬২টি উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, ৪৭টি বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-লুটপাট এবং ৩৬টি জমি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দখলের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

এছাড়া কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের তথ্য তুলে ধরে সংগঠনটি জানায়, নারী নির্যাতন, অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের একাধিক ঘটনাও তাদের নথিতে রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৯৬৩টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে বলে সংগঠনটির দাবি। এর মধ্যে ৭৩ দশমিক ৭ শতাংশ ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী পাঁচ মাসে, ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ ঘটনা ২০২৫ সালে এবং চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ঘটে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ ঘটনা।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, হামলার সংখ্যা কিছুটা কমলেও তা কোনোভাবেই স্বস্তির বার্তা নয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এখন গণআক্রমণের পরিবর্তে নির্দিষ্ট ব্যক্তি, পরিবার, উপাসনালয় ও সম্পত্তিকে লক্ষ্য করে হামলা ও নির্যাতনের প্রবণতা বেড়েছে, যা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও গভীর করছে।

বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, সহিংসতা, সম্পত্তি দখল এবং দেশত্যাগে বাধ্য হওয়ার অভিযোগ বারবার উঠে এসেছে। তারা দাবি করেন, এসব ঘটনার অনেকগুলোর বিচার না হওয়ায় দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে এবং একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ এখনও পর্যাপ্ত নয়। তবে এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময় সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ, মিলন কান্তি দত্ত, রঞ্জন কর্মকার, ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ বসু এবং ছাত্র ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দীপংকর চন্দ্র শীল।

সংখ্যালঘুদের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং কার্যকর রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version