আফগানিস্তান ক্রিকেটের উত্থানের অন্যতম পথিকৃৎ এবং দেশটির সাবেক তারকা পেসার শাপুর যাদরান আর নেই। দীর্ঘদিন ধরে বিরল ও জটিল রোগে ভোগার পর মঙ্গলবার ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩৮ বছর। হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, মৃত্যুর মাত্র একদিন পরই ছিল তার ৩৯তম জন্মদিন।
তার মৃত্যুতে আফগানিস্তানজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে বিশ্ব ক্রিকেটাঙ্গনেও গভীর শোক ও বেদনার সৃষ্টি হয়েছে। সতীর্থ, ভক্ত এবং ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাপুর জাদরানের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাচ্ছেন।
পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস (এইচএলএইচ) নামে একটি বিরল ও জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে প্রথম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে আফগানিস্তানের চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নেওয়া হয়। দিল্লির একটি হাসপাতালে কয়েক মাস ধরে তার চিকিৎসা চলছিল।
চিকিৎসার প্রাথমিক পর্যায়ে কিছুটা শারীরিক উন্নতি দেখা দেওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেন। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। মাত্র ২০ দিনের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার আবার অবনতি ঘটে। এরপর তাকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে হার মানেন আফগানিস্তানের এই সাবেক তারকা পেসার।
শাপুর জাদরানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এক শোকবার্তায় বোর্ড জানায়, “গভীর শোক ও দুঃখের সঙ্গে আমরা জানাচ্ছি যে, আফগানিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলার শাপুর জাদরান আর আমাদের মাঝে নেই। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তার পরিবার, বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা রইল।”
আফগানিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাসে শাপুর জাদরানের অবদান অনস্বীকার্য। দেশটির ক্রিকেট যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার সংগ্রামে ব্যস্ত ছিল, তখন তিনি ছিলেন দলের অন্যতম ভরসার নাম। তার গতি, আগ্রাসী বোলিং এবং লড়াকু মানসিকতা আফগানিস্তানকে বিশ্ব ক্রিকেটে পরিচিত করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানের জার্সিতে ৮০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এই বাঁহাতি পেসার। দেশের হয়ে তিনটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার স্মরণীয় পারফরম্যান্স আজও আফগান ক্রিকেট সমর্থকদের মনে উজ্জ্বল হয়ে আছে।
ক্রিকেট মাঠে তার সাহসী লড়াই যেমন অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, তেমনি জীবনযুদ্ধেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে গেছেন তিনি। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে জন্মদিনের আগের দিনই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন আফগানিস্তানের এই সাবেক তারকা পেসার।
শাপুর জাদরানের মৃত্যু শুধু আফগানিস্তান ক্রিকেটের জন্য নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার অবদান, সংগ্রাম এবং স্মৃতিগুলো ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।


