জ্বালানি সংকট এবার পাকিস্তানের মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে সামাজিক আয়োজনেও আঘাত হেনেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহের অনিশ্চয়তায় পরিস্থিতি সামাল দিতে কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার।

নতুন নির্দেশনায় বিয়ের অনুষ্ঠানে এক পদের বেশি খাবার পরিবেশন করা যাবে না। রাত ৯টার মধ্যে দোকান, বাজার ও শপিংমল বন্ধ করতে হবে। বিয়ের হল বন্ধ হবে রাত ১০টায় এবং রেস্তোরাঁ-ক্যাফে রাত ১১টার মধ্যে গুটিয়ে নিতে হবে।

সরকারি গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। নতুন সরকারি গাড়ি কেনা বন্ধের পাশাপাশি আগামী তিন মাস সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জরুরি সফরে যেতে হলে ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি দপ্তরের বৈঠকও অনলাইনে করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সরকারের ভাষ্য, সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির বাড়তি চাপ কমাতেই আগে সরকার ও উচ্চবিত্তদের ব্যয় কমাতে হবে।

কিন্তু এসব সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের সংকটের গভীরতাই যেন সামনে এনে দিয়েছে। বাজার বন্ধ হচ্ছে আগেভাগে, সরকারি গাড়িতে তেল কমছে, বিদেশ সফর থামছে- এমনকি বিয়ের ভোজের পদও গুনে দিতে হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট তাই আর শুধু অর্থনীতির সমস্যা নয়; এর প্রভাব এখন পাকিস্তানের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও সামাজিক আনন্দেও স্পষ্ট।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version