ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজে ‘সিবিডি অয়েল’ ও ‘অ্যারোমেটিক অয়েল’ নামে উচ্চমাত্রার টিএইচসি সমৃদ্ধ মাদক বিক্রির অভিযোগে মোহাম্মদ আনিসুর রহমান (৪০) নামে এক কেমিস্টকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় রাজধানীর বাড্ডা থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় আনিসুর রহমানের পাশাপাশি দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
ডিএনসি জানায়, রোববার রাজধানীর বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই স্থান থেকে ৬২০ মিলিলিটার টিএইচসি উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা। একই সঙ্গে মাদক প্রস্তুত ও প্যাকেটজাত করার বিভিন্ন সরঞ্জাম, ৫০টি ছোট কাচের বোতল, দারাজের লোগোযুক্ত পলিথিন প্যাকেট, কম্পিউটার ও মুঠোফোন জব্দ করা হয়।
দারাজের ওয়েবসাইটে ‘সিবিডি অয়েল’ নামে একটি পণ্য বিক্রির তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়। পরে কর্মকর্তারা ক্রেতা সেজে ওই পণ্য অর্ডার করেন। দারাজের ডেলিভারি কর্মীর মাধ্যমে পাওয়া তরল পদার্থের নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষায় পাঠানো হলে তাতে উচ্চমাত্রার টিএইচসি-গাঁজার প্রধান মাদকীয় উপাদান পাওয়া যায়।
গত ১৬ আগস্ট তিনটি কাচের বোতলে ২০ মিলিলিটার করে মোট ৬০ মিলিলিটার টিএইচসি অর্ডার করা হয়। ওই দিন বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে রমনার সেগুনবাগিচা-তোপখানা রোডের নকশী টাওয়ারের সামনে পার্সেলটি নিয়ে আসেন দারাজের পণ্য সরবরাহকারী কর্মী মো. নাঈম (২০)। পার্সেল তল্লাশি করে পলিথিনে মোড়ানো তিনটি কাচের বোতল পাওয়া যায়।
জিজ্ঞাসাবাদে নাঈম জানান, তিনি বাড্ডার সাঁতারকুলের একটি ফ্ল্যাট থেকে পার্সেলটি সংগ্রহ করেছিলেন। এর ভেতরে মাদক রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না। ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, মাদক ব্যবসার সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে আটক করা হয়নি।
ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা অঞ্চলের উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানান, অনলাইনে বিক্রি করা পণ্যে মাদক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই সাঁতারকুলের ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। সেখানে বিপুল পরিমাণ ‘সিবিডি অয়েল’ ও মাদক প্রস্তুতের বিভিন্ন উপকরণ পাওয়া যায়। ওই ফ্ল্যাটটিকে মাদক প্রস্তুত ও প্যাকেটজাত করার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ডিএনসি।
আনিসুর রহমান পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে দারাজসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে টিএইচসি বিক্রি করে আসছিলেন। মাদককে তিনি ‘সিবিডি অয়েল’ কিংবা ‘অ্যারোমেটিক অয়েল’ নামে বাজারজাত করতেন। তদন্তে দারাজের মাধ্যমে গত পাঁচ বছরে প্রায় ৪০৫ বোতল টিএইচসি বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে ডিএনসি।
আনিসুর রহমান পেশায় একজন কেমিস্ট। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি জাপানে যান। দেশে ফিরে হাতে তৈরি সাবান ও সুগন্ধি পণ্য তৈরির ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে সেই ব্যবসার আড়ালে তিনি মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এদিকে মামলায় দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে আসামি করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ডিএনসি মহাপরিচালক হাসান মারুফ বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়াই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মাদক বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, অনলাইন বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা আইনত অপরাধ এবং এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।


