জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহারে বড় ধস, সরকারি সামগ্রীতেও ভয়াবহ ঘাটতি; অনিরাপদ এমআর নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

বাংলাদেশে নারীদের প্রজনন অধিকার ও সন্তান নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। দেশে প্রায় ৪৯ শতাংশ গর্ভধারণ অনিচ্ছাকৃত, আর ৭৭ শতাংশ নারী সন্তান নেওয়ার বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৫৩ লাখ নারী গর্ভধারণ করেন। এর মধ্যে প্রায় ৬১ শতাংশ ক্ষেত্রে মেনস্ট্রুয়াল রেগুলেশন (এমআর) করা হয়। উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব নারীর প্রায় ৪১ শতাংশ অনিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহার করেন, যা নারীর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

শুধু অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণই নয়, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ পরিস্থিতিও সংকটকে আরও গভীর করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৪৯৩টি উপজেলার মধ্যে ১৯০টিতে কনডমের মজুদ নেই। একইভাবে ৪২০টি উপজেলায় আইইউডি এবং ৩৮৫টি উপজেলায় ইমপ্ল্যান্ট মজুদ নেই। ফলে পরিবার পরিকল্পনা সেবার আওতায় থাকা নারীদের একটি বড় অংশ প্রয়োজনীয় জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এদিকে দেশে জন্মনিরোধক ব্যবহারের হারও কমেছে। ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী বিবাহিত নারীদের মধ্যে জন্মনিরোধক ব্যবহারের হার ২০১৯ সালে ৬২ দশমিক ৭ শতাংশ থাকলেও ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ২ শতাংশে। অর্থাৎ ছয় বছরের ব্যবধানে ব্যবহার কমেছে প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট।

অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ঘাটতি এবং নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সীমাবদ্ধতা- এই তিনটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বিশেষ করে নিরাপদ ও সহজলভ্য পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিত না হলে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ ও অনিরাপদ এমআরের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

প্রতি বছর ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস পালিত হয়। দিবসটি সামনে রেখে বাংলাদেশের এই পরিসংখ্যান নারীর প্রজনন অধিকার, নিরাপদ পরিবার পরিকল্পনা সেবা এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে এনেছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version