বরগুনার বেতাগীতে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে ঢুকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। হামলায় শিশুটির তিনটি দাঁত উপড়ে গেছে এবং দুটি দাঁত ভেঙে গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় সে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গত সোমবার বিকেলে উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে রাতে বেতাগী থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ মামলায় অভিযুক্ত মো. ফয়সাল মৃধা (২২), তাঁর ছোট ভাই মো. সিফাত মৃধা (২০) ও মা মোসা. শিরিন বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, শিশুটির স্বজন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ফয়সাল বেশ কিছুদিন ধরে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করা হতো।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৯ সেপ্টেম্বর শিশুটি বাড়ির বাইরে শৌচাগারে গেলে ফয়সাল উঁকি দিয়ে তার শরীরে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেন। শিশুটির চিৎকারে স্বজনেরা এগিয়ে এলে তিনি পালিয়ে যান। পরে ভুক্তভোগীর মা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

এ ঘটনার পর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বসে। পরিবারের দাবি, সালিশের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ফয়সাল শিশুটিকে মারধরের হুমকি দেন। তাঁর ভয়ে কয়েকদিন শিশুটিকে বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়নি। পরে সোমবার এক শিক্ষক তাকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যান।

এরপর বিকেল ৪টার দিকে বিদ্যালয়ে ঢুকে শিশুটির ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে ফয়সালের বিরুদ্ধে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, তিনি শিশুটিকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারেন। একপর্যায়ে মুখে লাথি লাগলে তার কয়েকটি দাঁত ভেঙে ও উপড়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠে বসে যন্ত্রণায় কাঁদছে শিশুটি। তার মুখ থেকে রক্ত ঝরছে এবং মাঠের একাংশেও রক্তের দাগ দেখা যাচ্ছে।

ভুক্তভোগীর মা বলেন, ‘ফয়সালের ভয়ে মেয়েকে ঘরে আটকে রেখেছি। আমিও পালিয়ে থেকেছি। ওর বাবা নেই, আমরা গরিব।’ তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকদিন ধরে ফয়সাল তাঁর মেয়েকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন এবং চলাফেরায় বাধা দিতেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি মেয়েকে মারধর করেন।

গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে ফয়সাল বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। কয়েকজনের শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। সোমবার হঠাৎ বিদ্যালয়ে ঢুকে তিনি ওই ছাত্রীকে মারধর করেন। পরে শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার বলেন, হামলার পর পুলিশ ফয়সালের মা শিরিন বেগমকে আটক করে। পরে শিশুটির মা মামলা করলে ফয়সাল ও তাঁর ভাই সিফাতকেও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার তিনজনকে মঙ্গলবার বরগুনা আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version