ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের কথা বলে ডেকে নিয়ে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে তিতাস নদীর মাঝনদীতে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় শান্ত বিশ্বাস (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার তিন পেশাদার নৃত্যশিল্পীর সঙ্গে সরাইলের শাহবাজপুর গ্রামের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশনের জন্য ৯ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয়। অগ্রিম হিসেবে দেওয়া হয় ২ হাজার টাকা। পরে নির্ধারিত সময়ে দুই নারী ও এক পুরুষ শিল্পী সরাইলে পৌঁছান।

অভিযোগ অনুযায়ী, সেখান থেকে তাঁদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শাহবাজপুর সেতু এলাকায় নেওয়া হয়। পরে বিয়ের অনুষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তোলা হয়। নৌকাটি তিতাস নদীর মাঝামাঝি যাওয়ার পর অভিযুক্তরা সেটি থামিয়ে দেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নৌকায় থাকা পুরুষ নৃত্যশিল্পীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণে রেখে দুই নারীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। তাঁদের একজন কিশোরী। ঘটনার সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে পুরুষ সহকর্মীকে অস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরে রাতে ভুক্তভোগীদের নাসিরনগর এলাকার একটি ঘাটে নামিয়ে দিয়ে অভিযুক্তরা নৌকা নিয়ে পালিয়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আসামির সংখ্যা পাঁচ থেকে ছয়জন বলা হয়েছে; পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মামলার পর শুক্রবার গভীর রাতে সরাইলের বুড্ডা এলাকা থেকে শান্ত বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অন্য অভিযুক্তদেরও শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ঘটনাটি নিয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) নিন্দা জানিয়েছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version