বিশ্বকাপের মহারণ এখন শেষ বাঁকে। বাকি শুধু দুই সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ও ফাইনাল। ৪৮ দলের দীর্ঘ লড়াই শেষে শিরোপার দৌড়ে টিকে আছে চার পরাশক্তি-আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ড। ঠিক এই চার দলই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সেমিফাইনালে উঠবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটার। এবার সেই সুপারকম্পিউটারই জানিয়ে দিল, কার হাতে উঠতে পারে ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি।

অপটার সর্বশেষ ২৫ হাজার সিমুলেশনের বিশ্লেষণে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের দুর্দান্ত ফর্মে ভর করে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ফরাসিদের ৫৭.৭ শতাংশ, আর শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৩৪ শতাংশ-যা চার দলের মধ্যে সর্বোচ্চ।

শিরোপা জয়ের সম্ভাবনায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন। তাদের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ২৩.৪ শতাংশ, যদিও ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৪২.৩ শতাংশ। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ২১.৯ শতাংশ। ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও থ্রি লায়ন্সদের বেশ উজ্জ্বল।

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে এবার সবচেয়ে কম সম্ভাবনাময় দল হিসেবে দেখছে সুপারকম্পিউটার। লিওনেল মেসিদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ২০.৬ শতাংশ। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে দুই দলের লড়াইকে প্রায় সমান সমান ধরা হয়েছে। সিমুলেশনের ৪৯.১ শতাংশে আর্জেন্টিনা এবং ৫০.৯ শতাংশে ইংল্যান্ডকে ফাইনালে উঠতে দেখা গেছে, অর্থাৎ এই ম্যাচে সামান্য ব্যবধানই গড়ে দিতে পারে ইতিহাস।

শুধু শিরোপাই নয়, ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট নিয়েও চলছে দারুণ লড়াই। দৌড়ে সবার সামনে আছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে—দুজনেরই গোলসংখ্যা সমান এবং সেমিফাইনালে তাদের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করতে পারে শেষ পর্যন্ত কে জিতবেন এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। তাদের পেছনে রয়েছেন স্পেন ও ইংল্যান্ডের কয়েকজন ফরোয়ার্ড, যারা শেষ দুই ম্যাচে জ্বলে উঠতে পারলে সমীকরণ বদলে যেতে পারে।

অপটার পূর্বাভাসের নির্ভুলতাও এবার আলোচনায়। প্রতিষ্ঠানটি কোয়ার্টার ফাইনালের চারটি ম্যাচের ফলই সঠিকভাবে অনুমান করেছিল। এর আগে শেষ ষোলোর আট ম্যাচের মধ্যে ছয়টির এবং নকআউট পর্বের প্রথম ধাপের ১৬ ম্যাচের মধ্যে ১৪টির বিজয়ীও সফলভাবে পূর্বাভাস দিয়েছিল।

এখন দেখার বিষয়, সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয় কি না, নাকি ফুটবলের অনিশ্চয়তার সৌন্দর্য আবারও নতুন কোনো ইতিহাস লিখে দেয়।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version