কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বাধা দেওয়া এবং দায়িত্ব পালনরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির এক নেতাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে বাধা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার পর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম জিলাল ও ব্যবসায়ী জিলাল প্রামাণিককে নামীয় আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুমারখালী স্টেশনবাজার-সংলগ্ন ছালপট্টি বাজারে নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পশুখাদ্যের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিলকদ হোসেন। অভিযানে তাঁকে সহায়তা করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন এবং কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনের সদস্যরা।

অভিযান চলাকালে খোকন ট্রেডার্সের মালিক সাইদুল ইসলাম খোকনকে নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পশুখাদ্য রাখার দায়ে ৪ হাজার টাকা এবং প্রণব ট্রেডার্সের মালিক প্রণব কুমার ঘোষকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, জরিমানার পর একদল ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেন। তারা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর শারীরিক হামলা চালায়। কিল-ঘুষি মেরে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার এ ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতিতেই এমন ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার গভীর তদন্ত চলছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে বুধবার রাত পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার পর বুধবার ছালপট্টি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। বাজার কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জিলালকে দোকানে পাওয়া যায়নি। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল।

অভিযানে জরিমানা পাওয়া ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম খোকন বলেন, মেয়াদের তথ্য না থাকায় তাঁকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা পরিশোধ করে তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। পরে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে তাঁর জানা নেই।

অপর ব্যবসায়ী প্রণব কুমার ঘোষ দাবি করেন, তিনি ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, সেখানে কোনো হামলা বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি, শুধু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল।

এদিকে মামলার বাদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিলকদ হোসেনও কোনো মন্তব্য না করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। তবে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর কোনো তথ্য জানা নেই।

সরকারি দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর হামলার অভিযোগ এবং তাতে একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতার নাম উঠে আসায় ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version