মক্কার পবিত্র আকাশসীমার কাছে ড্রোন হামলার চেষ্টাকে ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সৌদি আরব। দেশটির দাবি, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর এই কর্মকাণ্ড মুসলিম বিশ্বের অনুভূতিতে আঘাত এবং পবিত্র নগরীর নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। একই সঙ্গে হুতিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রিয়াদ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে একটি ড্রোন শনাক্ত করে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পরে সেটি ভূপাতিত করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ড্রোনটি মক্কার নির্ধারিত নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়েছে।

আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, হুতিদের এই ‘শত্রুতাপূর্ণ প্রচেষ্টা’ তাদের লঙ্ঘনের তালিকায় ‘আরেকটি কালো অধ্যায়’ হয়ে থাকবে। তার অভিযোগ, লাখো মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যেই এমন কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মক্কার নিরাপত্তা সৌদি আরবের জন্য একটি ‘রেড লাইন’। হুতিদের কর্মকাণ্ডের জবাবে প্রয়োজনীয় ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে হুতিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)। সংগঠনটির ১৬ সেপ্টেম্বরের বিবৃতিতে ঘটনাটিকে পবিত্র স্থান ও বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওআইসি ৫৭ সদস্যের একটি আন্তর্জাতিক আন্তঃসরকারি সংস্থা। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়ে আসছে।

তবে সৌদি আরবের অভিযোগের বিপরীতে হুতিরা মক্কা বা কোনো ধর্মীয় স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছে। একই সময়ে গোষ্ঠীটি সৌদি ভূখণ্ডের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করেছে এবং ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে এসব অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে।

মক্কার কাছে ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তীব্র হচ্ছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিমান হামলার অভিযোগও করেছে হুতিরা।

রয়টার্স জানিয়েছে, হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের পরিস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এদিকে মক্কার আকাশসীমার কাছে ড্রোন ধ্বংসের ঘটনা সৌদি আরবের জন্য বিশেষভাবে স্পর্শকাতর। কারণ মক্কা মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র নগরী এবং প্রতি বছর সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি হজ পালন করতে সমবেত হন।

রিয়াদের এই সতর্কবার্তার ফলে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ এবং এর উদ্দেশ্য নিয়ে সৌদি ও হুতি পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। এ ঘটনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক মহলের নজরও বাড়ছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version