একটি ভুল ‘ব্রেকিং নিউজ’ মুহূর্তেই একজন সাংবাদিকের ক্যারিয়ারকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিতে পারে। এমনই এক ঘটনার শিকার হয়েছেন আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপিকা ও সাংবাদিক ফ্লোরেন্সিয়া পেনিয়া। ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর ভুয়া খবর প্রচার করার পর শেষ পর্যন্ত তাকে চাকরি ছাড়তে হয়েছে।
আর্জেন্টিনার টেলিভিশন চ্যানেল লুজু টিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘এল শো দেল ভেরানো’–এর সরাসরি সম্প্রচারে পেনিয়া দাবি করেন, হোর্হে মেসি মারা গেছেন এবং এ কারণে বিশ্বকাপ চলাকালেই মেসিকে দেশে ফিরতে হবে।
সম্প্রচারে তিনি বলেন, “আমি খারাপ খবর দিতে চাই না, কিন্তু মেসির বাবা মাত্র মারা গেছেন। বিশ্বকাপের মাঝপথেই তাকে দেশে ফিরে যেতে হবে।”
তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই মেসি পরিবার এই তথ্যকে সম্পূর্ণ গুজব ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হোর্হে মেসি কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যার মধ্য দিয়ে গেলেও তিনি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
পরিবারের বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা খবর ও গুজব তাদের গভীরভাবে আঘাত করেছে। এটি একটি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় হলেও কিছু মানুষ যথাযথ সংবেদনশীলতা ও সম্মান প্রদর্শন করেননি।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচকে কেন্দ্র করে। ওই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন ৩৮ বছর বয়সী মেসি। একটি গোল উদযাপনের সময় তার চোখে জল দেখা যায়। সেই দৃশ্যের ভুল ব্যাখ্যা করেই পেনিয়া যাচাই-বাছাই ছাড়াই মৃত্যুর খবর প্রচার করেন বলে জানা যায়।
সমালোচনার মুখে পড়ে পরে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান পেনিয়া। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মেসি পরিবার যে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে অতিরিক্ত কষ্টের কারণ হওয়ায় তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তিনি দাবি করেন, অনুষ্ঠানের প্রযোজনা দল খবরটিকে যাচাইকৃত তথ্য হিসেবে তার কাছে উপস্থাপন করেছিল এবং তিনি সেটি বিশ্বাস করেছিলেন।
তবে নিজের দায় স্বীকার করে তিনি বলেন, “এই ভুলের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমি নিচ্ছি। তাই লুজু টিভি থেকে সরে দাঁড়ানোর এবং আমার অংশগ্রহণের সমাপ্তি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।”
এদিকে লুজু টিভিও পৃথক এক বিবৃতিতে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। চ্যানেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যথাযথ যাচাই ছাড়া এত সংবেদনশীল তথ্য প্রচার করা তাদের নীতিমালার পরিপন্থী। এজন্য ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চ্যানেলটি আরও জানিয়েছে, দায়িত্বশীল, নির্ভুল ও নৈতিক সাংবাদিকতার প্রতি তাদের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, সংবাদ প্রকাশে দ্রুততার চেয়ে তথ্যের সত্যতা যাচাই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভুল খবর শুধু বিভ্রান্তিই ছড়ায় না, বরং একজন সাংবাদিকের বিশ্বাসযোগ্যতা ও পেশাগত ভবিষ্যতের ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


