দুই দশকের বর্ণিল আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের ইতি, আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির বিদায়ে আবেগঘন শ্রদ্ধা পর্তুগিজ কোচের
আন্তর্জাতিক ফুটবলে লিওনেল মেসির যুগের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়কের জাতীয় দল থেকে বিদায়ের ঘোষণায় আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পর্তুগিজ কোচ জোসে মরিনিও। তার মতে, মেসিকে ছাড়া আগামী কোপা আমেরিকা কিংবা বিশ্বকাপের আসর আর আগের মতো হবে না।
ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময় মেসিকে আটকানোর কৌশল তৈরিতে ব্যয় করেছেন মরিনিও। চেলসি ও রিয়াল মাদ্রিদের কোচ থাকার সময় আর্জেন্টাইন তারকার বিপক্ষে বহুবার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। মাঠে মেসিকে থামাতে নানা কৌশল সাজিয়েছেন, কিন্তু অনেক সময়ই সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়ে নিজের জাদু দেখিয়েছেন মেসি।
সেই মেসিই যখন আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন, তখন শ্রদ্ধা জানাতে ভুল করেননি মরিনিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টাইন মহাতারকার দুই দশকের ক্যারিয়ারকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘একটি চমৎকার ও অবিস্মরণীয় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য অভিনন্দন। পরের কোপা আমেরিকা এবং পরের বিশ্বকাপ আর আগের মতো থাকবে না।’
৩৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়ের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন মেসি। ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেকের পর প্রায় দুই দশক ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন তিনি। এই সময়ে ২০৭ ম্যাচে করেছেন ১২৫ গোল। জিতেছেন কোপা আমেরিকার দুটি শিরোপা এবং ২০২২ সালে এনে দিয়েছেন বহুল কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ।
বিদায়ের সিদ্ধান্ত যে সহজ ছিল না, মেসির বক্তব্যেই তার আভাস মিলেছে। জাতীয় দলের সঙ্গে নিজের গভীর আবেগের কথা তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের সামনে এগিয়ে আসার সুযোগ করে দিতেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মেসির ভাষায়, ‘সময় ফুরিয়ে আসছে, অধ্যায়ের ইতি ঘটে, আর এটি এমন একটি অধ্যায় যা আমাকে ভীষণভাবে ব্যথিত করছে। আমি জাতীয় দলের অংশ হতে ভালোবাসি, ভালোবেসেছি এবং চিরকাল ভালোবাসব। আমি আমার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি, দেওয়ার মতো আর কিছু বাকি নেই।’
তিনি আরও বলেন, জাতীয় দলে তার পেছনে বেশ কিছু প্রতিভাবান তরুণ উঠে এসেছে। নিজেদের প্রমাণ করার জন্য তাদের সুযোগ পাওয়া উচিত বলেও উল্লেখ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
তবে জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ হলেও ক্লাব ফুটবলে মেসির গল্প এখনো শেষ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের ক্লাব ইন্টার মিয়ামির সঙ্গে ২০২৮ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে তার। ফলে ক্লাব পর্যায়ে আরও কয়েক বছর তাকে মাঠে দেখা যেতে পারে।
মেসির বিদায়ের পর নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনাও। লিওনেল স্কালোনির দলকে এবার দলের সবচেয়ে বড় তারকা, অধিনায়ক ও দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের প্রতীককে ছাড়াই ভবিষ্যতের বড় টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা করতে হবে।
একটি প্রজন্মের ফুটবলকে বদলে দেওয়া মেসির বিদায় তাই শুধু একজন খেলোয়াড়ের অবসর নয়- আন্তর্জাতিক ফুটবলের একটি বর্ণিল অধ্যায়ের সমাপ্তিও। মরিনিওর ভাষায়, তার অনুপস্থিতিতে বিশ্বকাপের মঞ্চ থাকবে, থাকবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা; কিন্তু মেসি ছাড়া সেই বিশ্বকাপ আর আগের মতো হবে না।


