মেহেরপুর শহরের পৃথক তিনটি স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটির তারে ঝুলতে দেখা বোমাসদৃশ বস্তু ঘিরে শনিবার সকালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে, শহরের কোর্ট মোড় এবং ড. শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কের সামনে থেকে একই ধরনের তিনটি বস্তু উদ্ধার করা হয়।

সকালে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটির বিভিন্ন তারের সঙ্গে বক্স আকৃতির একটি বস্তু ঝুলতে দেখেন স্থানীয়রা। দেখতে অস্বাভাবিক হওয়ায় সেটিকে বোমা বলে সন্দেহ করেন অনেকে। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়।

খবর পেয়ে সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বস্তুটি নামিয়ে পানিভর্তি একটি বালতিতে রাখা হয়। পরে ব্যাটারির সঙ্গে যুক্ত তারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

এরপর শহরের কোর্ট মোড় ও ড. শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কের সামনেও একই ধরনের আরও দুটি বস্তু ঝোলানো থাকার তথ্য পায় পুলিশ। পরে সেগুলোও উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।

উদ্ধার করা তিনটি বস্তু থানায় নেওয়া হয়েছে। এগুলো কে বা কারা সেখানে রেখেছে, কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ঘটনাটি নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে সন্দেহজনক বস্তু ও নাশকতার আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। ফলে এমন ঘটনাকে নিছক গুজব বা ছোটখাটো ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে জনসমাগমস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় আরও সতর্কতা প্রয়োজন।

এ ধরনের ঘটনার উদ্দেশ্য যদি পরিকল্পিতভাবে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি বা বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়ে থাকে, তা হলে তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগের বিষয়। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশ ধীরে ধীরে জঙ্গিবাদ ও নাশকতার ঝুঁকির দিকে ধাবিত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version