যশোরে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (এফসিএস)’-এর সন্দেহভাজন এক সদস্যকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। আটক ব্যক্তির নাম তাহসীন ইসলাম (১৯)। তিনি যশোর সদর উপজেলার কিসমত নোয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও ওহিদুল ইসলামের ছেলে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৯টার দিকে নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তার কক্ষ তল্লাশি করে একটি চাপাতি, তারসহ কয়েকটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করে পুলিশ। জব্দ করা আলামতগুলো তদন্তের স্বার্থে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মিরাজুল ইসলাম জানান, রাজধানীর কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটে দায়ের করা একটি মামলার সূত্র ধরে তাহসীনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি মামলাও রয়েছে, যেখানে তিনি তৃতীয় নম্বর আসামি।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাহসীন আলোচিত ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (এফসিএস)’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যশোর জেলায় সংগঠনটির কোনো সক্রিয় সাংগঠনিক কার্যক্রম বা সদস্য বর্তমানে নেই বলেও জানা গেছে। বিষয়টি আরও যাচাই করে দেখছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার রাতেই তাহসীন ইসলামকে পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের জন্য সিটিটিসির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে গত ৫ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার সন্দেহে ছয় যুবককে আটক করে সিটিটিসি। ওই অভিযানের পর তদন্তে একটি নেটওয়ার্কের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (এফসিএস)’ নামে পরিচিত এই সংগঠনের বিরুদ্ধে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে তরুণদের উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করা এবং সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

পুলিশ বলছে, উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং এ ধরনের নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version