চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল কর্মী মুহাম্মদ করিমকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর পিস্তল হাতে গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও নিজের ফেসবুক স্টোরিতে প্রকাশ করেছেন মো. রায়হান। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে একটি নাইন এমএম পিস্তল দিয়ে পরপর তিনটি গুলি ছুড়তে দেখা যায় তাঁকে। তবে ভিডিওটি কখন ও কোথায় ধারণ করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রায়হানকে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র।

৩৫ বছর বয়সী রায়হান তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। একসময় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালালেও পরে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের দাবি, ছদ্মবেশে তিনি চোলাই মদও বিক্রি করতেন।

একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় কারাগারে থাকার সময় সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে রায়হানের পরিচয় হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে কথিত ছাত্র আন্দোলনে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আরও বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, সাজ্জাদ সম্প্রতি কারাগারে গেলেও তাঁর অস্ত্রভান্ডারের দেখভালের দায়িত্ব রায়হানই পালন করছেন।

গত ২৯ জুলাই সাজ্জাদ-চক্রের আরেক সদস্য মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন নোয়াখালীতে রায়হানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় পুলিশ। তবে অভিযানের সময় তিনি পালিয়ে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানীহাট এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদল কর্মী মুহাম্মদ করিমকে (৩৫)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চার-পাঁচটি মোটরসাইকেলে করে একদল ব্যক্তি সেখানে এসে করিমকে ঘিরে ফেলেন। এ সময় তাঁদের একজন কিরিচ দিয়ে করিমের ঘাড় ও মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে কয়েকজন তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। পরে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত করিমের বিরুদ্ধেও চুরি, মাদক, ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি একাধিকবার কারাগারেও ছিলেন।

করিম হত্যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রায়হানের পিস্তল হাতে গুলি ছোড়ার ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটির উৎস, ধারণের সময় ও স্থান এবং হত্যাকাণ্ডে রায়হানের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না- এসব বিষয় তদন্ত করছে পুলিশ।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version