বিরোধীদের অংশগ্রহণ সীমিত, যুদ্ধের আবহে ভোট; সংসদে আরও একচ্ছত্র হলো পুতিনের রাজনৈতিক শিবির
ইউক্রেন যুদ্ধের আবহ, কঠোর নিরাপত্তা এবং বিরোধীদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পেয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড রাশিয়া। প্রাথমিক ফলাফলে ৪৫০ আসনের স্টেট ডুমার ৩৫৫টি আসন দখলে নিয়েছে দলটি- ২০১৬ সালের ৩৪৩ আসনের আগের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে এবার।
তিন দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশিত ফলাফল রুশ পার্লামেন্টে পুতিনপন্থী শক্তির আধিপত্য আরও সুসংহত করেছে। ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৯ শতাংশের বেশি। ক্রেমলিন এই ফলাফলকে সরকারের নীতি ও নেতৃত্বের প্রতি জনগণের সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরলেও নির্বাচনটির প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ, বিরোধীদের অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা মহল।
৩৫৫টি আসন পাওয়ায় স্টেট ডুমায় ইউনাইটেড রাশিয়ার অবস্থান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট পুতিনের রাজনৈতিক শিবিরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইন ও সাংবিধানিক সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখা সহজ হবে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ নির্বাচনের ফলাফলকে পুতিনের নীতির প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে এই বক্তব্যের বিপরীতে বিরোধী দল ও পশ্চিমা পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ, নির্বাচনে কার্যকর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ সীমিত ছিল।
নির্বাচনের আগে যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ইয়াব্লোকোসহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ সীমিত হওয়ায় নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নও রাশিয়ার নির্বাচনী পরিবেশের সমালোচনা করেছে এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সুযোগ সংকুচিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছে।
অন্যদিকে মস্কো এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বৈধ ও জনগণের রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
প্রাথমিক ফলাফলে কমিউনিস্ট পার্টি পেয়েছে ৪০টি আসন, এলডিপিআর ২৫টি এবং নিউ পিপল ২০টি আসন। ফলে প্রধান বিরোধী ও অন্যান্য দলগুলো পার্লামেন্টে থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিক থেকে ইউনাইটেড রাশিয়ার সঙ্গে তাদের ব্যবধান রয়ে গেছে বিশাল।
ভোটগ্রহণের শেষ দিনে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার খবরের মধ্যেই কড়া নিরাপত্তায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। যুদ্ধের পরিস্থিতির মধ্যেও রুশ কর্তৃপক্ষ নির্বাচনী কার্যক্রম অব্যাহত রাখে।
এদিকে চেচনিয়ায় আঞ্চলিক প্রধান রমজান কাদিরভ ৯৯.৮৫ শতাংশ ভোট পেয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন বলে প্রাথমিক ফলাফলে জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, রাশিয়ার এবারের পার্লামেন্ট নির্বাচন পুতিনের রাজনৈতিক শিবিরকে সংসদে আরও শক্তিশালী অবস্থান এনে দিয়েছে। তবে এই বিপুল জয় যেমন ক্রেমলিনের জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে, তেমনি নির্বাচনী প্রতিযোগিতা, বিরোধীদের অংশগ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কও আরও তীব্র হয়েছে।


