ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করার জেরে ফরহাদ হোসেন নামের এক যুবককে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা নিয়ে ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই ফরহাদকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার পর মুক্তাগাছা পৌর শহরের মধ্যহিস্যা এলাকায় নিজ বাসা থেকে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি ফরহাদকে ডেকে নিয়ে যান বলে অভিযোগ পরিবারের। পরে পাশের রাস্তায় তাঁর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, রাত ১০টার দিকে অন্ধকার রাস্তায় হঠাৎ আগুনের ঝলকানি দেখা যায়। আগুনে দগ্ধ ফরহাদ নিজের শরীরের আগুন নেভাতে দৌড়ানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বিবস্ত্র অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি।
স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন তাঁর মৃত্যু হয়। শুক্রবার ময়নাতদন্ত শেষে বাদ মাগরিব ফরহাদের মরদেহ দাফন করা হয়।
নিহতের স্ত্রী রুনার অভিযোগ, গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করার পর থেকেই ফরহাদকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবেই দুই ব্যক্তি ফরহাদকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।
পরিবারের এই অভিযোগ হত্যাকাণ্ডের পেছনে মতপ্রকাশের কারণে প্রতিশোধ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা এবং ভিডিও পোস্টের সঙ্গে হত্যার সরাসরি যোগসূত্র তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া বাকি।
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফরহাদ একটি ভিডিও স্টেটমেন্টে হামলাকারীদের বিষয়ে কথা বলেছিলেন।
ওসি বলেন, ফরহাদ জানিয়েছিলেন, তাঁর কোনো শত্রু নেই। কী কারণে, কীভাবে এবং কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারেননি। তবে দুজন ব্যক্তি তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল, যাদের তিনি চিনতে পারেননি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। ঘটনাটিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ফরহাদ ‘বেকার মুক্তি কর্মসংস্থান’ নামের একটি সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদকবিরোধী নানা পোস্ট করতেন তিনি।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত মামলা গ্রহণ, হামলাকারীদের শনাক্ত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।


