সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে পাকিস্তানের আত্মত্যাগের দাবি; বক্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের একটি বক্তব্যকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, পাকিস্তান সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা না করলে তারা নিউইয়র্ক, লন্ডনসহ বিশ্বের বড় শহরগুলোর রাস্তায় ঘুরে বেড়াত।

জাতিসংঘের মঞ্চে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী ভূমিকা তুলে ধরে শেহবাজ শরিফ বলেন, তার দেশ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এ লড়াইয়ে পাকিস্তানে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং দেশটি প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এরপর তিনি বলেন, “Had these terrorists not been encountered by us, they would have been roaming on the streets of New York and London and God knows, far east.” অর্থাৎ, পাকিস্তান যদি এসব সন্ত্রাসীকে মোকাবিলা না করত, তাহলে তারা নিউইয়র্ক, লন্ডন এমনকি সুদূর পূর্বাঞ্চলের রাস্তায়ও ঘুরে বেড়াত।

শরিফের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ছিল পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ হিসেবে তুলে ধরা। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে শুধু পাকিস্তানের জনগণকেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।

শরিফের বক্তব্যে মূলত দুটি বিষয় সামনে এসেছে। প্রথমত, পাকিস্তান নিজেকে সন্ত্রাসবাদের বড় ভুক্তভোগী এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করেছে। দ্বিতীয়ত, তিনি সন্ত্রাসবাদকে কোনো একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে না দেখে বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংকট হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, নিউইয়র্কে একজন মানুষ নিহত হওয়া কিংবা লাহোরে একজন মানুষ নিহত হওয়ার মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই; সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে তিনি বৈশ্বিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন।

শেহবাজ শরিফের ভাষণ অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তান বড় ধরনের মানবিক ও অর্থনৈতিক মূল্য দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, গত দুই দশকের বেশি সময়ে সন্ত্রাসবাদের কারণে পাকিস্তানে ৯০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ গেছে এবং অর্থনীতিতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার।

একই সঙ্গে তিনি পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সক্রিয় কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, এসব গোষ্ঠীর কিছু আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তার বক্তব্যে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)সহ কয়েকটি গোষ্ঠীর নাম আসে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। শেহবাজ শরিফের এই বক্তব্য সেই বিতর্কের মধ্যেই পাকিস্তানের নিজের অবস্থান ব্যাখ্যার একটি প্রচেষ্টা। তিনি একদিকে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের শিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে দাবি করেছেন- পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version