শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যখন প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা তুঙ্গে, তখন সাতক্ষীরায় ঘটেছে এক ব্যতিক্রমী শিল্পকর্মের আয়োজন। মাটি, খড় ও বাঁশের প্রচলিত কাঠামোর বাইরে এবার দেড় লাখেরও বেশি দিয়াশলাই কাঠি এবং ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে দেবী দুর্গার প্রতিমা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দিরে এই অভিনব প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার আগেই ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা দেখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে এসে প্রতিমা তৈরির কাজ দেখছেন এবং মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন।

মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, মাটির তৈরি প্রতিমার অবয়বের ওপর অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে একের পর এক দিয়াশলাই কাঠি বসানো হচ্ছে। কোথাও কাঠিগুলো পাশাপাশি, কোথাও আবার নির্দিষ্ট নকশায় সাজিয়ে তৈরি করা হচ্ছে দেবীর পোশাক ও অলংকারের নান্দনিকতা। এর সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে রেশমি সুতার কারুকাজ।

শিল্পীদের সামান্য ভুলেও পুরো নকশা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে প্রতিটি কাঠি ও সুতার অবস্থান নির্ধারণ করতে নিতে হচ্ছে বাড়তি সময় ও সতর্কতা। চারজন শিল্পী দীর্ঘ সময় ধরে দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রতিমাটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

প্রতিমাশিল্পী নবদ্বীপ সরকার জানান, তিনি ভারতে গিয়ে দিয়াশলাই কাঠি ও রেশমি সুতা ব্যবহার করে প্রতিমা তৈরির বিশেষ কৌশল সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই সাতক্ষীরায় এবার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাজের প্রয়োজনে কখনো কখনো গভীর রাত পর্যন্ত শিল্পীদের কাজ করতে হচ্ছে।

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে দেড় লাখের বেশি দিয়াশলাই কাঠি এবং ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা। চারজন শিল্পী এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এ কাজে যুক্ত রয়েছেন। শুধু শিল্পীদের পারিশ্রমিক বাবদ প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের পূজা আয়োজনের ব্যয় প্রায় ৫ লাখ টাকা হতে পারে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

ব্রহ্মরাজপুর মন্দিরে প্রতিবছরই নতুনত্ব আনার চেষ্টা করা হয়। গত বছর এখানে প্রায় ১০০ কেজি চিনিগুঁড়া ধান ব্যবহার করে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছিল। ব্যতিক্রমী সেই প্রতিমা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর আগমন ঘটে।

গত বছরের সেই সাড়া থেকেই এবার আরও আকর্ষণীয় কিছু করার পরিকল্পনা নেয় পূজা উদযাপন কমিটি। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দিয়াশলাই কাঠি ও রেশমি সুতার ব্যবহার করে প্রতিমা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দের আশা, এবারের প্রতিমা দেখতে সাতক্ষীরা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থীরা আসবেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version