‘ইয়েমেনে ঢুকলে কঠোর জবাব’- ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা
ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন করে ভয়াবহ মোড় নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দিলে তুরস্ক ও পাকিস্তানকেও সরাসরি হামলার মুখে পড়তে হবে- এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথিরা। সংগঠনটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি বলেছেন, তুরস্ক বা পাকিস্তান ইয়েমেনের সংঘাতে সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়লে তাদের বিরুদ্ধেও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হুথিদের এই হুমকি এমন এক সময়ে এলো, যখন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে। ৭ আগস্ট মক্কায় স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। চুক্তিটির লক্ষ্য হিসেবে যৌথ প্রতিরোধক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
হুথিদের হুমকির মধ্যেই তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সামরিক প্রয়োজন দেখা দিলে তুরস্ক প্রয়োজনীয় সামরিক ও কারিগরি সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিদানের বক্তব্যটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই এসেছে।
ফলে হুথিদের হুঁশিয়ারি এখন কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি মক্কা চুক্তির বাস্তব পরীক্ষায় রূপ নেবে- তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
মক্কা চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে অন্য দুই দেশের বিরুদ্ধেও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশিত না হওয়ায় বাস্তবে কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে অপর দুই দেশ ঠিক কী ধরনের সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
এ কারণেই ইয়েমেনে সৌদি আরবের পক্ষে তুরস্ক বা পাকিস্তানের সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণ ঘটলে পরিস্থিতি দ্রুত একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
হুথিদের হুমকির পাশাপাশি পাকিস্তানের ওপরও সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার চাপ বাড়ছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পাকিস্তান হুথিদের সৌদি আরবে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ জানিয়েছে, পরিস্থিতি গুরুতর হলে এবং চুক্তির আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রয়োজন দেখা দিলে তাদের প্রতিরক্ষামূলক দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।
তবে ‘এক দেশে হামলা মানেই তিন দেশের বিরুদ্ধে হামলা’- এই ধারার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে পাকিস্তানি বা তুর্কি সেনা ইয়েমেনে পাঠানো নয়। সামরিক প্রতিক্রিয়ার ধরন, চুক্তি কার্যকরের প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য ভৌগোলিক সীমা নিয়ে এখনও কিছু বিষয় অস্পষ্ট রয়েছে।
ইয়েমেনের হুথিদের সাম্প্রতিক হামলা শুধু সৌদি ভূখণ্ড নয়, জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। চলমান সংঘাতে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ার খবরও এসেছে। একই সময়ে হুথিরা ইয়েমেনের কৌশলগত এলাকায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে।
এমন পরিস্থিতিতে তুরস্ক বা পাকিস্তানের সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা হলে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কারণ এর সঙ্গে শুধু ইয়েমেন ও সৌদি আরব নয়- লাল সাগর, বাব আল-মান্দাব, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক সামরিক জোটের প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে।


