দেশে হামের উপসর্গে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৭৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ফলে গত পাঁচ মাসে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫০ জনে।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে চারজন ঢাকা বিভাগের, দুজন বরিশাল বিভাগের এবং একজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৮৫১ জন। আর পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৯৯ জনের। সব মিলিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা ৯৫০।

বিভাগভিত্তিক হিসাবেও পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে- ৩৮০ জন। এরপর সিলেটে ১৪৩, রাজশাহীতে ৯২, ময়মনসিংহে ৭৪, চট্টগ্রামে ৬৪, বরিশালে ৫১, খুলনায় ৩৩ এবং রংপুর বিভাগে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

একটি সংক্রামক রোগে মাত্র কয়েক মাসে প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু বিশেষ করে যখন মৃতদের বড় একটি অংশ শিশু- স্বাভাবিকভাবেই দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে এমন প্রাণহানি শুধু একটি স্বাস্থ্য সংকট নয়, বরং রোগ শনাক্তকরণ, টিকাদান, চিকিৎসা এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে।

এত বিপুল মৃত্যুর পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ কতটা কার্যকর, প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকা ও চিকিৎসাসেবা কতটা পৌঁছাচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা হচ্ছে কি না- এসব প্রশ্নের জবাব এখন জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা জরুরি।

সরকারের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দায়িত্ব শুধু রোগের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা নয়; সংক্রমণ ঠেকানো, সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি সম্ভাব্য মৃত্যুকে প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা নেওয়াও তাদের দায়িত্ব। অথচ পাঁচ মাসে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৫০-এ পৌঁছানোয় সেই দায়িত্ব পালনের কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version