হামের ভয়াবহতা যেন কিছুতেই থামছে না। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭৯ জনে।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে দুজন করে মারা গেছেন।
তবে মৃত্যুর সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো- মৃতদের বড় একটি অংশের ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত না হলেও হামের উপসর্গ ছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৯ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ফলে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৩৮৪ জনে। একই সময়ে আরও ১ হাজার ১৫৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে সন্দেহভাজন সংক্রমণের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৫০ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে, তার আরেকটি বড় প্রমাণ হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশের হাসপাতালে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫১৯ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
একদিকে হাজার হাজার মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, অন্যদিকে প্রতিদিনই ঝরছে প্রাণ। এমন পরিস্থিতিতে হাম প্রতিরোধ, টিকাদান কার্যক্রম, দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ কতটা কার্যকর-তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন উঠছে।
হাম প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। অথচ বিপুলসংখ্যক মানুষের আক্রান্ত হওয়া এবং শত শত মৃত্যুর ঘটনা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে ঘাটতির বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।


