চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বে হাম সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের দেশ হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ বৈশ্বিক নজরদারি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত দেশে হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৪২ হাজার ১৭৪ জন, যা বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ।
ডব্লিউএইচওর জেনেভা সদর দপ্তরে জমা হওয়া তথ্য এবং জুলাই মাসের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসিও একই মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে। তালিকায় বাংলাদেশের পর রয়েছে ভারত, ইয়েমেন, মেক্সিকো, পাকিস্তান, ক্যামেরুন, কাজাখস্তান, গুয়েতেমালা, অ্যাঙ্গোলা ও সুদান।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ১৯ হাজার ৪৪৮ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৭০৮ জনের সংক্রমণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত সংক্রমণে মোট ৭৯৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৯৫ জনের সংক্রমণ পরীক্ষায় নিশ্চিত ছিল।
নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ভয়াবহ দুর্বলতা, টিকার সংকট এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারির অভাব পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলেছে। একসময় জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য থাকলেও ২০২৫ সালে হামের নিয়মিত টিকাদানের হার নেমে আসে মাত্র ৫৯ শতাংশে, যা প্রয়োজনীয় ৯৫ শতাংশের অনেক নিচে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চূড়ান্ত হিসাবেও বাংলাদেশ হাম সংক্রমণে বিশ্বের শীর্ষে থাকবে এবং মৃত্যুর সংখ্যাও বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারকে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতি, টিকা সরবরাহে দুর্বলতা এবং সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
দেশের অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে দুই ডোজ হামের টিকার আওতায় আনতে না পারলে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। তাই দ্রুত টিকাবঞ্চিত শিশুদের শনাক্ত করে গণটিকাদান জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।


