বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জন্য নতুন এক গর্বের অধ্যায়। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের দরজা খুলে গেল কাভান সুলিভানের জন্য। আর্জেন্টাইন কোচ মৌরিসিও পচেত্তিনোর ঘোষিত ২৮ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এই কিশোর প্রতিভা। এটাই যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র জাতীয় দলে কাভানের প্রথম ডাক।
আসন্ন আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে পেরু, চিলি, মেক্সিকো ও কানাডার বিপক্ষে চারটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে যুক্তরাষ্ট্র। এই ম্যাচগুলো সামনে রেখে দল ঘোষণা করেছেন পচেত্তিনো। দলে নতুন মুখ একাধিক, আর তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ১৬ বছর বয়সী কাভান।
মাত্র ১৪ বছর বয়সেই পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল কাভানের। এরপর দ্রুতই নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন মেজর লিগ সকারের দল ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নে। চলতি মৌসুমেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন এই তরুণ।
কাভানের জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার গল্পে বাংলাদেশেরও রয়েছে বিশেষ যোগসূত্র। তার মাতামহী সুলতানা আলম বাংলাদেশের ঢাকার মানুষ। বাংলাদেশি শিকড়ের এই সম্পর্ক শুধু পারিবারিক পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়- কাভানের বড় ভাইদের একজন রোনান সুলিভান ইতোমধ্যে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে খেলেছেন। তার যমজ ভাই ডেক্লান সুলিভানও বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক দলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
রোনান ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত অভিষেক করেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া গোল করে আলোচনায় আসেন তিনি। পরে টুর্নামেন্টজুড়েও বাংলাদেশের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
অর্থাৎ একই পরিবারের একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের সম্ভাবনাময় তরুণ কাভান, অন্যদিকে বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সিতে নিজেদের পরিচয় তৈরি করা রোনান ও ডেক্লান। চার ভাইয়ের ফুটবলযাত্রায় তাই যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দুই দেশেরই ছাপ স্পষ্ট।
কাভানের বড় ভাই কুইন সুলিভানও যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে পরিচিত নাম। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে খেলা এই ২২ বছর বয়সী ফুটবলার গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলেছেন। এবার অবশ্য পচেত্তিনোর ঘোষিত দলে তিনি নেই।
পচেত্তিনোর এবারের দলটিতে তরুণদের আধিক্যও চোখে পড়ার মতো। ১৮ বছর বা তার কম বয়সী খেলোয়াড় রয়েছেন ছয়জন। সব মিলিয়ে দলের গড় বয়স ২২ বছর ৯ মাস- যা বিশ্বকাপের একটি সম্ভাব্য স্কোয়াডের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে তরুণ একটি দল গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দল ঘোষণার সময় পচেত্তিনো তরুণদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, এটি সবার জন্য নতুন শুরুর সময়। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় তরুণদের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করতে পেরে তারা উচ্ছ্বসিত।
কাভানের সামনে এখন অপেক্ষা আরও বড় মঞ্চের। জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামার সুযোগ পেলে মাত্র ১৬ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র দলের হয়ে নিজের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ পাবেন তিনি।
বাংলাদেশের জন্যও এই গল্প আলাদা তাৎপর্য বহন করে। কারণ সুলিভান পরিবারের ফুটবলযাত্রায় দুই দেশের দুই রঙের জার্সি পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে- কাভান যুক্তরাষ্ট্রের পথে এগোচ্ছেন, আর তার ভাই রোনান ও ডেক্লান ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ফুটবলের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেছেন।
ফিলাডেলফিয়ার এই ফুটবল পরিবার তাই এখন দুই দেশের সমর্থকদেরই নজরে। একজনের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের অভিষেকের হাতছানি, অন্য দুজন ইতোমধ্যে বাংলাদেশের লাল-সবুজে নিজেদের ছাপ রেখে গেছেন।


