দিনাজপুরে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও এর সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে দুজনকে অপহৃত ব্যক্তিকে নিয়ে মুক্তিপণের টাকা সংগ্রহ করতে এসে হাতেনাতে আটক করা হয় বলে দাবি পুলিশের। পরে তাদের ছাড়িয়ে নিতে থানায় গিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরন্নবী।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন, এনসিপির দিনাজপুর জেলা কমিটির সদস্য বলে পুলিশের দাবি করা হাসীন ইসরাক মিম (২২), মিনাজ (২৯), প্রেম (২২) ও হৃদয় ইসলাম (২২)।
পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার খোসালপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদ (৫৮) রোববার রাতে নিজ বাড়ি থেকে অপহৃত হন। এরপর তার পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একপর্যায়ে চার লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার শর্তে তার ছেলে মো. মামুনকে সোমবার বিকেলে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠসংলগ্ন মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে টাকা নিয়ে আসতে বলা হয়।
খবর পেয়ে সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেয় পুলিশ। নির্ধারিত সময়ে অভিযান চালিয়ে একটি প্রাইভেটকার থেকে আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে আরিফ মুন ও হাসীন ইসরাক মিমকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, তারা মুক্তিপণের টাকা নিতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, আটক দুজনকে থানায় নেওয়ার পর তাদের মুক্তির দাবিতে এনসিপি ও জাতীয় যুব শক্তির কয়েকজন নেতা-কর্মী কোতোয়ালি থানায় যান। এ সময় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে মিনাজ, প্রেম ও হৃদয় ইসলামকে আটক করা হয়।
সোমবার রাতে অপহৃত আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলা করেন। মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার রাতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কোতোয়ালি থানার সামনে অবস্থান নিয়ে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ এনসিপি-সমর্থকদের থানা এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়।
ওসি নুরন্নবী বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঘটনার পেছনে টাকা লেনদেন-সংক্রান্ত একটি বিরোধ রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।”
অন্যদিকে, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শামসুল মুক্তাদির দাবি করেন, গ্রেপ্তার হওয়া হাসীন ইসরাক মিম জেলা কমিটির সদস্য নন। তিনি বলেন, “নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হোক। কেউ অপরাধ করে থাকলে আইন অনুযায়ী অবশ্যই তার শাস্তি হওয়া উচিত।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার নেপথ্যের কারণ ও অপহরণে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


