ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ কারলো আনচেলত্তির একটি মন্তব্যকে ঘিরে ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। নিজের দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, তাকে ফুটবল বোঝানো বা বিচার করার মতো যোগ্যতা খুব কম মানুষেরই রয়েছে।

আগামীকাল রাত ২টায় শক্তিশালী নরওয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ন্যাশনাল ফুটবল টিম। সেই ম্যাচকে সামনে রেখে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন আনচেলত্তি।

তিনি বলেন, “আমি ফুটবল পুরোপুরি বুঝি কি না, সেটা হয়তো নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না। তবে আমি ফুটবল বুঝি কি না, সেই বিচার করার যোগ্যতাও কারও নেই। কোচ হিসেবে আমি এক হাজার চার শতাধিক ম্যাচ পরিচালনা করেছি। ফুটবল সম্পর্কে সবকিছু জানার জন্য হয়তো এটুকু যথেষ্ট নয়, কিন্তু অভিজ্ঞতার দিক থেকে আমি পিছিয়ে নেই।”

দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কোচিং জীবনের প্রসঙ্গ টেনে আনচেলত্তি আরও বলেন, তার চেয়ে বেশি ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে কেবল কিংবদন্তি কোচ এলেক্স ফারগুষণর। তিনি বলেন, “আমার চেয়ে একজন মানুষেরই বেশি ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে, তিনি স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। তিনি দুই হাজারেরও বেশি ম্যাচে দলের কৌশল নির্ধারণ করেছেন। আমি অবশ্যই সবার পরামর্শ শুনি এবং সম্মান করি। কিন্তু আমাকে উপদেশ দেওয়ার মতো যোগ্য ব্যক্তি যদি কেউ থাকেন, তিনি শুধুই অ্যালেক্স ফার্গুসন।”

আনচেলত্তির এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কেউ তার আত্মবিশ্বাসের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ মন্তব্যটিকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী ও বিতর্কিত বলে অভিহিত করেছেন।

তবে আসন্ন ম্যাচ নিয়েও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন ব্রাজিল কোচ। প্রতিপক্ষ নরওয়ের শক্তিমত্তা এবং তাদের তারকা ফরোয়ার্ড আরলিং হালান্ডকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

আনচেলত্তি বলেন, “বিশ্বকাপের বাকি পথটা মোটেও সহজ হবে না। নকআউট পর্বে অনেক সময় কৌশল কিংবা টেকনিকের চেয়ে মানসিক দৃঢ়তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। নরওয়ে একটি দুর্দান্ত দল। তাদের দলে হালান্ডের মতো বিশ্বমানের ফুটবলার রয়েছে। এই মুহূর্তে সে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার। তাই আমাদের জন্য ম্যাচটি সহজ হবে না।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট সম্মান করি। তবে নিজেদের সামর্থ্য নিয়েও আমরা আত্মবিশ্বাসী। সমর্থকদের জন্য একটি উপভোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ উপহার দিতে চাই।”

ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যকার ম্যাচটি তাই শুধু মাঠের লড়াই নয়, বরং আনচেলত্তির বিতর্কিত মন্তব্যের পর তার দল কেমন পারফরম্যান্স করে, সেদিকেও থাকবে ফুটবল বিশ্বের বিশেষ নজর।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version