২০২৪ সালের কথিত জুলাই আন্দোলন ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন কবি, লেখক ও রাজনৈতিক চিন্তক ফরহাদ মজহার। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনা সরকারের পতন কোনো স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থানের ফল নয়; বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত ‘রিজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই এই রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে।
ফরহাদ মজহারের দাবি, আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন শীর্ষ সমন্বয়ককে মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘সেফ হাউসে’ রাখা হয়েছিল। সেখানে তাদের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে আন্দোলনের মূল লক্ষ্য পরিবর্তন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আন্দোলনের শুরুর দিকের পরিস্থিতি স্মরণ করে ফরহাদ মজহার বলেন, ২ আগস্ট রাতে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ কথা হয়েছিল। তখনও আন্দোলনের বিষয়ে ‘কম্প্রোমাইজ’ বা সমঝোতার আলোচনা চলছিল।
ফরহাদ মজহারের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের কয়েকটি গ্রুপ ইতোমধ্যে ‘সেফ হাউসে’ অবস্থান করছিল। এসব সেফ হাউস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তৈরি করেছিল।
সেখানে অবস্থানরত ছাত্র নেতাদের ওপর এমন চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, যাতে তারা আন্দোলনের দাবি সীমিত করে শুধু শেখ হাসিনার পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আনেন।
ফরহাদ মজহারের ভাষায়, ‘সেফ হাউসে তো মগজ ধোলাই হয়েছে।’ সেখানে থাকা ব্যক্তিরা ফোন করে জানিয়েছিলেন- তাদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে যেন তারা শুধু শেখ হাসিনার পদত্যাগের কথা বলেন।
কথিত জুলাই আন্দোলনের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার গভীর পরিবর্তনের দাবি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই আন্দোলনকে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দাবিতে- শেখ হাসিনার পদত্যাগে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়।
তাঁর অভিযোগ, এই পরিবর্তনের পেছনে দেশীয় রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি বিদেশি প্রভাবও সক্রিয় ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে।

