দেশের বিভিন্ন কারাগারে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কারা হেফাজতে অন্তত ৬১ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন বিচারাধীন (আন্ডার-ট্রায়াল) বন্দি, যা দেশের কারাগার ব্যবস্থাপনা ও বন্দিদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাহলে কি জাকার্তা মেথডে এই সরকার আগাচ্ছে?

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে কারা হেফাজতে মারা যাওয়া ৬১ জনের মধ্যে ৩৭ জন ছিলেন বিচারাধীন বন্দি এবং ২৪ জন ছিলেন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর ৬০ শতাংশেরও বেশি ঘটেছে বিচারাধীন বন্দিদের ক্ষেত্রে।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে মোট ৩৬ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭ জন বিচারাধীন এবং ১৯ জন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ছিলেন।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে আটজন বন্দির মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে সাতজন ছিলেন বিচারাধীন এবং একজন ছিলেন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি।

রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে সমান সংখ্যক, অর্থাৎ পাঁচজন করে বন্দির মৃত্যু হয়েছে। উভয় বিভাগেই মৃতদের মধ্যে চারজন ছিলেন বিচারাধীন এবং একজন ছিলেন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি।

বরিশাল বিভাগে দুইজন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। রংপুর বিভাগেও দুইজন বন্দি মারা গেছেন এবং তারা দুজনই ছিলেন বিচারাধীন। সিলেট বিভাগে একজন বিচারাধীন বন্দির মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহ বিভাগে দুইজন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন বিচারাধীন এবং অপরজন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ছিলেন।

আসকের মতে, বিচারাধীন বন্দিদের মৃত্যুর উচ্চ হার কারাগারগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা, অতিরিক্ত বন্দি ধারণ, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং বন্দিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।

কারা হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং বন্দিদের চিকিৎসা ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বিচারাধীন বন্দিদের দীর্ঘদিন কারাগারে আটকে থাকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

দেশের কারাগারগুলোতে বন্দি ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দি থাকার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। মানবাধিকার সংগঠনগুলো মনে করে, এই পরিস্থিতি বন্দিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version