কুমারখালীতে কেজিপ্রতি ৫–১৩ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ, বছরে ১৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার হিসাব

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আমন মৌসুমের শুরুতেই দেখা দিয়েছে সারের সংকট। সরকারি দরে চাহিদামতো সার না পেয়ে কৃষকদের ছুটতে হচ্ছে সাবডিলার ও খোলা বাজারে। অভিযোগ রয়েছে, বাড়তি টাকা দিলেই মিলছে প্রয়োজনীয় সার। এতে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১৩ টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।

পান্টি ইউনিয়নের বড় ভালুকা গ্রামের কৃষক সামছুল আলম পাঁচ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করছেন। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় বিসিআইসি ডিলারের কাছে চাহিদামতো সার না পেয়ে বেলতলী এলাকার সাবডিলারের কাছ থেকে ইউরিয়া ৩২ টাকা, ডিএপি ৩৭ টাকা ও টিএসপি ৩৮ টাকা কেজি দরে কিনেছেন। অথচ সরকারি দাম যথাক্রমে ২৭, ২১ ও ২৭ টাকা।

একই এলাকার কৃষক জনি মোল্লার অভিযোগ, ডিলারের কাছ থেকে একবারে ১৫–২০ কেজির বেশি সার দেওয়া হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে তাঁকেও বেশি দামে ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি কিনতে হয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদামতো সার সরবরাহ না করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। পরে সেই সুযোগে সাবডিলার ও খোলা বাজারে বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কুমারখালীতে ইউরিয়া ১০ হাজার ৮৩৮, টিএসপি ২ হাজার ৭৩৮, ডিএপি ৪ হাজার ৯৮৫ এবং এমওপি ৩ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টন বরাদ্দ ছিল। কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে বাড়তি দামের হিসাব করলে ওই অর্থবছরে প্রায় ১৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত নেওয়ার হিসাব পাওয়া যায়। তবে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ ও জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন।

স্থানীয় বাজারে টিএসপি ৩৮–৪২, ইউরিয়া ৩০–৩২, ডিএপি ৩২–৩৫ এবং এমওপি ২৫–২৮ টাকা কেজি দরে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

কুমারখালীতে বিসিআইসির ১৩ ও বিএডিসির ১৭ জন ডিলারের অধীনে ১০৮ জন সাবডিলার রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে বেশি দামে সার বিক্রি ও লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসার অভিযোগও উঠেছে।

পান্টি ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার জাবিউল্লাহ পলাশ কম সার দেওয়ার কথা স্বীকার করে দাবি করেন, কৃষকদের সুষম সার ব্যবহারে উৎসাহিত করতেই কম পরিমাণে দেওয়া হচ্ছে। বেলতলার সাবডিলার মেসার্স ওয়াকিল এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক ওয়াকিল আহমেদ বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করলেও বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা বেশি নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন জানান, কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ডিলার পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং অসাধু ডিলার ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version