নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে ‘পার্টনার্স ফর মাল্টিল্যাটারালিজম’ (পি৪এম)। পরাশক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত নতুন এই জোটের উদ্বোধনী আয়োজনে যোগ দিচ্ছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

জাতিসংঘের বহুপাক্ষিকতা নীতি সমর্থন এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের লক্ষ্যে গঠিত হয়েছে নতুন জোট ‘পার্টনার্স ফর মাল্টিল্যাটারালিজম’ বা পি৪এম। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চলমান অধিবেশনের সাইডলাইনে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জোটটির উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর অংশ নেবেন।

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রাজিল, কেনিয়া ও কানাডার নেতাদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা পি৪এম চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশের বিষয়টি তুলে ধরবে। উদ্বোধনী অধিবেশনের পর একটি সংবাদ সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কও নিউইয়র্কে মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে। পুরো সপ্তাহে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন জয়শঙ্কর। আগামী শনিবার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার। এর আগে পি৪এমের উদ্বোধনী আয়োজনে ভারতের অংশগ্রহণকে নতুন এই উদ্যোগের প্রতি নয়াদিল্লির আগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পি৪এমের নেতারা এক যৌথ নিবন্ধে জানিয়েছেন, নতুন জোটের মূল লক্ষ্য জাতিসংঘকে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক, কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও ডিজিটাল রূপান্তরের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো হবে।

জোটটি জাতিসংঘ ও অন্যান্য বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কারেও সমর্থন দেবে। বিশেষ করে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের দেশগুলোর আরও কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত যৌথ নিবন্ধটির লেখক ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা, কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

নিবন্ধে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতিয়েরেসের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, পরাশক্তিগুলো নিজেদের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করতে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত সম্মিলিত উদ্যোগের সম্ভাবনাকে নতুন করে কাজে লাগানো।

পি৪এম নেতাদের দাবি, নতুন এই উদ্যোগ কোনো ধরনের নতুন ‘আন্তর্জাতিক আমলাতন্ত্র’ তৈরির চেষ্টা নয়। বরং বিভিন্ন অঞ্চল ও রাজনৈতিক পটভূমির দেশগুলোর জন্য একটি নমনীয় ও উন্মুক্ত কাঠামো গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য।

এই কাঠামোর মাধ্যমে বিভাজন পেছনে ফেলে অভিন্ন স্বার্থে সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সংস্কারে জোট গঠন এবং যৌথ নীতিকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

গত জানুয়ারিতে দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে মাঝারি শক্তির দেশগুলোর আরও ঘনিষ্ঠভাবে একত্রিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার সেই বক্তব্যকে বিভিন্ন একতরফা পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মধ্যম শক্তির দেশগুলোর সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছিল।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাণিজ্য ও শুল্কনীতি, পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং ইরান সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও আন্তর্জাতিক পরিসরে নানা আলোচনা ও মতবিরোধ রয়েছে। এমন একটি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেই বহুপাক্ষিকতার পক্ষে পি৪এমের আত্মপ্রকাশ ঘটছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version