কথিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাবন্দি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজের জামিন আবেদন প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর আর বাসায় ফেরার প্রয়োজন বোধ করছেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আর কার কাছে যাব? সন্তানরা জামিন চায়। আমার বাসায় যাওয়ার আর তাড়া নেই।’

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দীপু মনিকে হাজির করা হয়। এদিন তার জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে শুনানি শুরুর আগে কথা বলার অনুমতি চান তিনি।

অনুমতি পেয়ে কাঠগড়ার মাইক্রোফোনে দাঁড়িয়ে দীপু মনি বলেন, ‘আমি দুই বছর ধরে কারাগারে আছি। গত এপ্রিল মাসে আমার জামিন আবেদন করা হয়েছে। এতদিন শুনানি হয়নি। এখন আমি জামিন চাই না। জামিন আবেদন প্রত্যাহার করতে চাই।’

নিজের পারিবারিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, তার স্বামী ড. তৌফীক নাওয়াজ দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী ছিলেন এবং বাকশক্তিও হারিয়েছিলেন। পাঁচ বছর সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি স্বামীর যত্ন নিয়েছেন বলেও জানান।

দীপু মনি বলেন, ‘আমার স্বামী সাত বছর শয্যাশায়ী ছিলেন। তার বাকশক্তিও ছিল না। কোনো কথা বললে চোখের পলক ফেলে উত্তর দিতেন। আমি পাঁচ বছর সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় শয্যাশায়ী স্বামীর যত্ন নিয়েছি।’

তিনি আরও জানান, তাকে গ্রেপ্তারের পর স্বামীকে দীর্ঘ সময় অজ্ঞাত স্থানে আশ্রিত অবস্থায় থাকতে হয়েছে। ফলে তার যত্নও নিতে পারেননি তিনি। দীপু মনির ভাষ্য, এই পরিস্থিতি তার স্বামী মেনে নিতে পারেননি।

গত ১৮ আগস্ট রাতে ড. তৌফীক নাওয়াজ মারা যান। এর আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ২৬ এপ্রিল স্বামীর কাছে থাকার সুযোগ চেয়ে দীপু মনির পক্ষে জামিন আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী।

আদালতে সেই প্রসঙ্গ তুলে দীপু মনি বলেন, ‘তখন তার কাছে যাওয়ার জন্য জামিন আবেদন করেছিলাম। ৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর শেষ সময়ে কাছে থাকতে পারিনি। এখন আমার বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। আমি আর কার কাছে যাব?’

দীপু মনি আরও বলেন, তার সন্তানরা তার জামিন চান। তবে নিজের আর বাসায় ফেরার তাড়া নেই। তার এই বক্তব্যের পর আদালতে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

দীপু মনির বক্তব্য শুনে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘আমরা খুবই ব্যথিত। আপনার আবেদনের যৌক্তিকতা আছে। কিন্তু আমাদের আরও অনেক বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়।’

পরে ট্রাইব্যুনাল দীপু মনির জামিন আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন। ফলে তার জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ওই দিন শুনানির পরই জানা যাবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version