বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী জোট জি-৭-এর সদস্য না হয়েও ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ পাচ্ছে ভারত। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ জি-৭ সম্মেলনসহ এ পর্যন্ত মোট ১৩ বার এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিয়েছে দেশটি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টানা সপ্তমবারের মতো জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিয়ে ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রভাবেরই প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় ভারত আর শুধু একটি আঞ্চলিক শক্তি নয়; বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, কূটনীতি ও জলবায়ু নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত হয়েছে। ফলে জি-৭-এর মতো প্রভাবশালী ফোরামেও ভারতের উপস্থিতি এখন প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ তুলে ধরার ক্ষেত্রে ভারত এখন অন্যতম শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণে ভারতের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব।
১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের বিশাল বাজার, দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ভারতের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়েছে। ডিজিটাল অবকাঠামো, উৎপাদন শিল্প ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্য বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে দেশটিকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় ভারতের ভূমিকা দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে ভারতকে নির্ভরযোগ্য ও দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে দেখছে পশ্চিমা দেশগুলো। নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ভারতের অবদান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সৌর জোট এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে ভারতের ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে ভারত দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে আসছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকটে সংলাপ, শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় দেশটির গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে বিশ্বমঞ্চে।
একসময় জি-৭ সম্মেলনে ভারতের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে। কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল প্রযুক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা, উন্নয়ন সহযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভারত সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। ফলে জি-৭-এর আলোচনায় দেশটির উপস্থিতি এখন আর আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং কার্যকর অংশীদারত্বের প্রতীক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় ভারতের মতো উদীয়মান শক্তিগুলো ছাড়া কোনো বৈশ্বিক উদ্যোগ সফল করা কঠিন। সেই কারণেই জি-৭-এর মতো প্রভাবশালী ফোরামগুলোতে ভারতের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে, আর বিশ্ব রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণেও দেশটির ভূমিকা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।


