লাইভ-ফায়ার প্রশিক্ষণে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, নিহত ২ সেনাসদস্য; গুরুতর আহত কর্মকর্তা

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লাইভ-ফায়ার প্রশিক্ষণের সময় Type 59G ‘Durjoy’ ট্যাংকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্যবহৃত গোলাবারুদের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বুধবারের এ দুর্ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত এবং একজন সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিস্ফোরণের পেছনে কামানের ব্যারেলে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা, গোলাবারুদের ত্রুটি, প্রপেল্যান্টে সমস্যা কিংবা সংরক্ষণ ও ব্যবহারে কোনো ত্রুটি ছিল কি না- এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কামানের ব্যারেলের ভেতরে কোনো বস্তু বা ধ্বংসাবশেষ আটকে থাকলে অথবা অতিরিক্ত কার্বন জমে গেলে গুলি ছোড়ার সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চাপ তৈরি হতে পারে। আবার গোলাবারুদের প্রপেল্যান্ট বা অন্য কোনো উপাদানে ত্রুটি থাকলেও চেম্বার ও ব্যারেলে ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি হয়ে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

এদিকে দুর্ঘটনার সময় ব্যবহৃত গোলাবারুদ পাকিস্তান থেকে আমদানি করা হয়ে থাকলে, সংশ্লিষ্ট গোলার চালান ও ব্যাচ তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে। আমদানির পর গোলাবারুদের মান যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, নির্ধারিত তাপমাত্রা ও নিরাপত্তাবিধি মেনে সংরক্ষণ করা হয়েছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাচে উৎপাদনগত কোনো ত্রুটি ছিল কি না- এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টে কথিত ছাত্র আন্দোলনে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ আমদানির তথ্য সামনে এসেছে। এর মধ্যে ৪০ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ, ২ হাজার ট্যাংক রাউন্ড, ৪০ টন RDX এবং ২ হাজার ৯০০টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রজেক্টাইল আমদানির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে হাটহাজারীর দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত গোলাটি ওই আমদানির কোনো নির্দিষ্ট চালান বা ব্যাচের ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। একই সঙ্গে ওই ব্যাচের অন্য গোলাবারুদে কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না, আমদানির সময় কী ধরনের মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণে কোনো সমস্যা তৈরি হয়েছিল কি না- এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

বিশেষ করে বিস্ফোরিত গোলার অবশিষ্টাংশ, একই ব্যাচের অব্যবহৃত গোলাবারুদ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকের ব্যারেল ও চেম্বার ফরেনসিক ও কারিগরি পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হলে দুর্ঘটনার উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

গোলাবারুদের ত্রুটি, ব্যারেলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত অন্য কোনো কারণ- কোনটি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী, তা তদন্তেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।

দুই সেনাসদস্যের মৃত্যুতে শোকের পাশাপাশি ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা সেনাবাহিনীর গোলাবারুদের মান নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও প্রশিক্ষণকালীন নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন সামনে এনেছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version