হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশের ক্রেতাদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করতে পারবে না কাতার এনার্জি। আগামী নভেম্বর এবং ডিসেম্বরের শুরুর দিক পর্যন্ত এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানটি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কাতার এনার্জি তাদের জারি করা ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির নোটিশের মেয়াদ বাড়িয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতারের এলএনজির ওপর নির্ভরশীল কয়েকটি দেশে সরবরাহ সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের জেরে গত এপ্রিল থেকেই কাতারের এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, সংঘাতের প্রভাবে কাতারের এলএনজি রপ্তানি প্রায় ৯৬ শতাংশ কমে গেছে। গত বছরের একই সময়ে যেখানে কাতার ৫০৯টি এলএনজি কার্গো পাঠিয়েছিল, সেখানে চলতি বছরের আগস্টের শেষ নাগাদ পাঠাতে পেরেছে মাত্র ১৮টি কার্গো।

কাতার এনার্জির সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়েছে ইউরোপের বাজারেও। ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন জানিয়েছে, কাতার এনার্জি তাদের আরও ছয়টি এলএনজি কার্গো বাতিল করেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির বাতিল হওয়া মোট চালানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫টিতে।

ইতালির মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করে এডিসন। কাতার থেকে সরবরাহ না পাওয়ায় ঘাটতি মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের ওপর বেশি নির্ভর করছে। কাতার এনার্জির সঙ্গে এডিসনের ২০০৯ সালে স্বাক্ষরিত ২৫ বছর মেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে।

এদিকে সামনে শীত মৌসুম। এ সময়ে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোতে গ্যাসের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। এর মধ্যে বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহ সীমিত থাকায় গ্যাস সংগ্রহ নিয়ে দুই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দামও উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে জার্মানিসহ ইউরোপের একাধিক দেশ শীতের আগে নিজেদের গ্যাসের মজুত বাড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। কাতার এনার্জির সরবরাহ পরিস্থিতি কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version