খুন-ধর্ষণ-ডাকাতি থেকে গুলি ও মাদক; বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২৩৭

রাজধানীর পাশের গুরুত্বপূর্ণ জেলা নরসিংদীতে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে একের পর এক গুরুতর অপরাধের ঘটনায় জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খুন, ধর্ষণের অভিযোগ, ডাকাতি, অপহরণ, ছিনতাই, আধিপত্যের সংঘর্ষ ও প্রকাশ্যে গুলি- অপরাধের এমন বহুমুখী চিত্র সামনে এসেছে জেলার বিভিন্ন উপজেলায়।

মাধবদীতে ধর্ষণের অভিযোগের পর কিশোরী হত্যার ঘটনা, ডাকাতি ঠেকাতে গিয়ে শাহজাহানের মৃত্যু, রায়পুরায় গুদামে আটকে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, আধিপত্যের সংঘর্ষে গুলি এবং মনোহরদীতে বাড়িতে ঢুকে অটোচালককে কুপিয়ে হত্যার মতো ঘটনা আতঙ্ক বাড়িয়েছে। একই সময়ে শিশু ও নারীদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার একাধিক অভিযোগও সামনে এসেছে।

অপরাধের এই বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের উপস্থিতি। আগস্টের মাত্র এক সপ্তাহের বিশেষ অভিযানে ২৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে পিস্তল, এলজি ও গুলি; পাশাপাশি ৮ হাজার ৬৩৩টি ইয়াবা, প্রায় ২৫০ কেজি গাঁজা ও ৪৯ বোতল ফেনসিডিল।

একের পর এক হত্যাকাণ্ড, গুলির ঘটনা, ডাকাতি ও যৌন সহিংসতার অভিযোগের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য নরসিংদীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুলসংখ্যক গ্রেপ্তার হলেও প্রশ্ন উঠছে- অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল?

বিশেষ করে স্থানীয় আধিপত্যের দ্বন্দ্বে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন এড়ানোর সুযোগ নেই। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের মৌলিক দায়িত্ব। তাই ধারাবাহিক এসব ঘটনায় শুধু অপরাধীদের গ্রেপ্তার নয়, অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা ও জবাবদিহিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version