নেত্রকোণার সদর উপজেলায় ১৩ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বহুল আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) গভীর রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে নেত্রকোণা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের সদর কোম্পানির কমান্ডার মেজর মীর ইশতিয়াক আমিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোণা মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় রিপন মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও আটজনকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই রিপন মিয়া আত্মগোপনে ছিলেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১ আগস্ট সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী কিশোরী নিজ বাড়ির উঠানে রান্নার কাজ করছিল। এ সময় তার বাবা-মা বাড়ির বাইরে ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সুযোগে রিপন মিয়া তাকে জোরপূর্বক পাশের একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে এলে অভিযুক্ত সেখান থেকে পালিয়ে যান।
এদিকে ঘটনার পর গত সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারে রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই বৈঠকে অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। পরে সালিসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ধর্ষণের মতো গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ সালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।
নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, মামলার তদন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আলামত সংগ্রহ, সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।


