নেপালে ভয়াবহ বন্যা যেন পরিণত হয়েছে এক ভয়ংকর মানবিক বিপর্যয়ে। একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে মরদেহ, কোথাও মিলছে ছিন্নভিন্ন মানবদেহের অংশ। প্রিয়জনকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বন্যাকবলিত জনপদ। এরই মধ্যে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩৪ জনে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৯৮ জন।
রোববার সকালে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে এ ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ৭৩৪টি মরদেহ ও মানবদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে এখনো অব্যাহত রয়েছে ব্যাপক অভিযান।
ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর ভয়ংকর স্রোতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের বিভিন্ন জেলা। আকস্মিক পানির তোড়ে মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে গেছে বসতবাড়ি, ভেসে গেছে সড়ক ও সেতু। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু এলাকা। ধ্বংস হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্র।
গত ২৬ আগস্ট ভোতে কোশি নদী এলাকায় আকস্মিক বন্যা শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। পাহাড়ি ঢল ও প্রবল স্রোত সামনে যা পেয়েছে, তা-ই যেন গ্রাস করেছে। অনেক পরিবার হারিয়েছে তাদের ঘরবাড়ি, জীবিকা এবং সবচেয়ে নির্মমভাবে আপনজনকে।
সবচেয়ে বড় শঙ্কা এখন নিখোঁজ ২ হাজার ৪৯৮ মানুষকে ঘিরে। স্বজনদের চোখে অপেক্ষা- কেউ ফিরবেন, নাকি উদ্ধার হবে তাঁর মরদেহ। দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, বিধ্বস্ত সড়ক যোগাযোগ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর কারণে উদ্ধারকারীদের প্রতিটি পদক্ষেপই হয়ে উঠেছে কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ।
নিখোঁজদের সন্ধানে দুর্গম এলাকাগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, হাসপাতাল ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ ও মানবদেহের অংশ শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
নেপাল সরকার জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় ও বিদেশি নাগরিক- যারা এখনো নিখোঁজ, তাঁদের শনাক্ত ও উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


