কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে মোটরসাইকেলে ইয়াবা পাচারের অভিনব কৌশল; উদ্ধারকৃত মাদকের বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা

চট্টগ্রামের পটিয়ায় মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের সময় সংঘবদ্ধ একটি বাইকার গ্যাংয়ের ছয় সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব-৭। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১ লাখ পিস ইয়াবা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পাঁচটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে পটিয়া পৌরসভার সরকারি কলেজ ও ডাকবাংলো এলাকায় বিশেষ তল্লাশি চৌকি বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-৭-এর সিপিসি-৩ (বহদ্দারহাট) ক্যাম্প। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে একে একে চক্রটির সদস্যদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- বশির (৩৭), হোসেন (৩৭), বেলাল উদ্দিন (৩২), নুরুল মোস্তফা (৩৮), সাইফুল ইসলাম (২৪) ও হাসান (৩৯)।

র‌্যাব জানায়, কয়েকদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে চক্রটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায় যে, কক্সবাজারের রামু থেকে মোটরসাইকেলে করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে আসা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা মহাসড়ক এড়িয়ে পটিয়ার অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবহার করলেও শেষ পর্যন্ত র‌্যাবের নজর এড়াতে পারেনি।

পরে সরকারি কলেজ ও ডাকবাংলো এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহভাজন মোটরসাইকেলগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পাঁচটি মোটরসাইকেল জব্দ এবং ছয়জনকে আটক করা হয়।

র‌্যাব-৭-এর সিপিসি-৩ (বহদ্দারহাট) কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম জানান, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ইয়াবা পরিবহন করে আসছিল। তাদের একজন সদস্য আগে গিয়ে সম্ভাব্য রুটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান পর্যবেক্ষণ করতেন। পরিস্থিতি নিরাপদ মনে হলে তিনি অন্য সদস্যদের সংকেত দিতেন। অভিযানে প্রথমে একজনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের বাকি সদস্যদেরও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও বলেন, উদ্ধার হওয়া ১ লাখ পিস ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। সাম্প্রতিক সময়ে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করেছে। এ ধরনের সংঘবদ্ধ মাদক চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

র‌্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা মোটরসাইকেলের মাধ্যমে ইয়াবা চোরাচালান ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবা, জব্দ করা মোটরসাইকেল এবং আটক ছয়জনকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পটিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version