রাজধানীর উত্তরায় প্রকাশ্যে পিস্তল ঠেকিয়ে এক ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কর্মীর কাছ থেকে ২ লাখ ১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ‘পিস্তল বাবু’ পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির নেতৃত্বে চারজন এ ছিনতাইয়ে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটের দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ সড়কের লেকসংলগ্ন একটি কফি শপের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী নাদিম আহমেদ সুজন নূর নাফি ডেভেলপারস লিমিটেডের সহকারী হিসাবরক্ষক। অফিস থেকে ২ লাখ ১ হাজার টাকা নিয়ে উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের জনতা ব্যাংকে জমা দিতে রিকশায় করে যাচ্ছিলেন তিনি। পথে ১১ নম্বর সেক্টরের লেকের কাছে পৌঁছালে পেছন থেকে রিকশায় থাকা এক ব্যক্তি তাকে ডাক দেন।

সুজনের ভাষ্য, প্রথমে ওই ব্যক্তি তাকে পরিচিত ভেবে কথা বলেন এবং ‘আপনি বাবুল ভাই?’ জানতে চান। তিনি পরিচয় অস্বীকার করলে ওই ব্যক্তি নিজেকে ‘পিস্তল বাবু’ বলে পরিচয় দেন। এ সময় তার হাতে পিস্তল ছিল বলে দাবি করেন সুজন।

এরপর ওই ব্যক্তি তাকে ভয় দেখিয়ে বলেন, ‘আমি গুলি-টুলি করে দিই। এখানে যা দেখতাছেন, সব আমার লোক।’ কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও দুই থেকে তিনজন সেখানে এসে ঘিরে ফেলেন বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একপর্যায়ে তার দিকে পিস্তল তাক করে প্রাণের ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা দিয়ে দিতে বলা হয়। পরে সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তি তার পকেট থেকে ২ লাখ ১ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর তাকে চুপচাপ চলে যেতে বলা হয়।

ঘটনার বিষয়ে নূর নাফি ডেভেলপারস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনির হোসেন বলেন, রাজউকের ফি জমা দেওয়ার জন্য অফিস থেকে টাকা নিয়ে উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের জনতা ব্যাংকে যাওয়ার সময় সুজন ছিনতাইয়ের শিকার হন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার প্রস্তুতি চলছে।

উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান জানান, পিস্তল ঠেকিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনার আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মুনসুর বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকাশ্য সড়কে দিনের বেলায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ বলছে, অভিযোগ ও সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version