বাংলাদেশে ২০২৪-র জুলাই অগাস্টে জঙ্গী হামলার পরে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় পুলিশের অস্ত্র সাধারণ মানুষের হাতে চলে যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন। সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীন-এর অনুষ্ঠান ‘ঠিকানা’য় তিনি দাবি করেন জুলাই-আগস্টের সহিংস পরিস্থিতিতে পুলিশের রাইফেল ও অন্যান্য অস্ত্র কীভাবে বেসামরিক ব্যক্তিদের হাতে গেল, সেই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়াই শেষ পর্যন্ত তাঁর জন্য রাজনৈতিক মূল্য ডেকে আনে।
সাখাওয়াত হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সময় বহু থানায় হামলা, লুটপাট ও অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় পুলিশের বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ ওঠে, তিন হাজারের অধিক পুলিশ নির্মমভাবে নিহত হন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন ছিল এবং তিনি সেই উদ্যোগও নিয়েছিলেন। তবে তদন্তের প্রশ্নটি অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছিল বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, কারা পুলিশের অস্ত্র নিজেদের দখলে নিয়েছিল, কীভাবে সেগুলো ব্যবহার হয়েছে এবং কত অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি এসব প্রশ্নের উত্তর জাতির সামনে আসা প্রয়োজন। তাঁর মতে, কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা নয়, বরং রাষ্ট্রের স্বার্থেই ঘটনাগুলোর স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া উচিত। এমন উদ্যোগ নেয়ায় তাঁকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।সাখাওয়াত হোসেনের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, দেশের সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাগুলোর প্রকৃত চিত্র উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য। বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য-প্রমাণ ও সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের জঙ্গী আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং অস্ত্র লুটের ঘটনা এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছিলেন যা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সেই সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু পুলিশ সদস্য নিহত হন।
সাম্প্রতিক এই মন্তব্যের মাধ্যমে সাখাওয়াত হোসেন আবারও প্রশ্ন তুলেছেন রাষ্ট্রের অস্ত্র রাষ্ট্রের বাইরে গেল কীভাবে, এবং সেই ঘটনার পূর্ণ সত্য কি কখনো জাতির সামনে আসবে?


