ধামরাইয়ে ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে নারীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সভা করে তিনি সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। কারও কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ১ হাজার টাকাও।
শনিবার সোমভাগ ইউনিয়নের বানেশ্বর এলাকার কয়েকজন নারী অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, দুই কপি ছবি ও নাগরিক সনদ সংগ্রহ করেন ফরিদা ইয়াসমিন। এ সময় কারও কাছ থেকে ১০০ টাকা, আবার কারও কাছ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে হাসিনা আক্তার, সালমা আক্তার, রহিমা বেগম, দোলনা আক্তার, খাদিজা বেগম, করিমন নেছা, সুফিয়া আক্তার, রূপবান আক্তার ও শিরিন আক্তার রয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড না পাওয়ায় তাঁরা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে অভিযোগ করেন।
শুধু বানেশ্বর নয়, একই ইউনিয়নের ডাউটিয়া, চর ডাউটিয়া, চাপিল, নওগাঁও ও সিন্ধুলিয়া এলাকার বাসিন্দারাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন এলাকায় সভা করে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।
পরে বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগীরা সোমভাগ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রুস্তম আলী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এসএম হাসান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম, ইউএনও মোহাম্মদ আল মামুন এবং স্থানীয় সংসদ-সদস্য তমিজ উদ্দিনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়া হলে তা শুধু অনৈতিকই নয়, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের অধিকারেও আঘাত করে। ফলে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন ও দলীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


